আপনার বিড়াল কেন সোফা বা চেয়ার আঁচড়ায়? সমাধান জানুন
· Prothom Alo

বিড়ালের থাবার নিচে থাকে বিশেষ একধরনের গন্ধগ্রন্থি। যখন ওরা কোনো জায়গায় নখ বসায়, তখন সেখানে অদৃশ্যভাবে নিজেদের গন্ধও রেখে যায়। এটি অন্য প্রাণীদের জন্য একধরনের বার্তা যে ‘এই জায়গা আমার’।
Visit grenadier.co.za for more information.
যাঁদের ঘরে বিড়াল আছে, তাঁদের কাছে একটি দৃশ্য বেশ পরিচিত। ঘরের বিভিন্ন আসবাবপত্রে স্পষ্ট নখের দাগ আর এলোমেলোভাবে বের হয়ে থাকা ছোট ছোট সুতা। প্রিয় সোফা বা চেয়ারের এ অবস্থা দেখে অনেকেই বিরক্ত হয়ে ভাবেন, ‘এত খেলনা দেওয়ার পরও আদরের পোষ্য কেন বাসার আসবাবপত্রের বারোটা বাজায়?’ বিষয়টিকে ‘দুষ্টুমি’ ভাবলেও এটি বিড়ালগোত্রীয় প্রাণীর স্বাভাবিক ও প্রবৃত্তিগত অভ্যাস।
মানুষের জন্য হাঁটাচলা বা কথা বলা যেমন সহজাত আচরণ, ঠিক তেমনই বিড়ালের এই আঁচড়ানো।
যেসব কারণে বিড়াল এমন করে
১. আঁচড়ের মাধ্যমে নিজের এলাকা চিহ্নিত করা
বিড়ালের থাবার নিচে থাকে বিশেষ একধরনের গন্ধগ্রন্থি। যখন ওরা কোনো জায়গায় নখ বসায়, তখন সেখানে অদৃশ্যভাবে নিজেদের গন্ধও রেখে যায়। এটি অন্য প্রাণীদের জন্য একধরনের বার্তা যে ‘এই জায়গা আমার’।
এ কারণেই ঘরের বিভিন্ন জিনিসে ওরা নিজেদের উপস্থিতির চিহ্ন রেখে যায়। মজার বিষয় হলো, যে সোফা বা চেয়ারে পরিবারের সদস্যরা বেশি সময় বসেন, সেসবেই বিড়াল বেশি আঁচড়াতে পছন্দ করে। কারণ, সেখানে মানুষের পরিচিত গন্ধ থাকে, আর নিজের গন্ধের সঙ্গে সেটি মিশিয়ে বিড়াল নিরাপদ বোধ করে। অর্থাৎ, আপনার সবচেয়ে প্রিয় সোফাটি হয়তো আপনার বিড়ালের কাছেও সবচেয়ে প্রিয় জায়গা।
২. নখের যত্নেও আঁচড়ানোর ভূমিকা
আঁচড়ানো শুধু অভ্যাস নয়, এটি বিড়ালের নখের যত্নেরও একটি অংশ। বিড়ালের নখ স্তরে স্তরে বাড়ে। সময়ের সঙ্গে পুরোনো স্তর ক্ষয়ে যায় এবং নতুন স্তর তৈরি হয়। যখন ওরা কোনো শক্ত বা কাপড়ের পৃষ্ঠে নখ ঘষে, তখন পুরোনো স্তর উঠে আসে এবং নতুন ধারালো নখ বের হয়।
এ কারণে সোফার পাশে ছোট ছোট নখের খোসার মতো অংশ পড়ে থাকতে দেখা যায়। এ ছাড়া বুনো পরিবেশে থাকা বিড়ালের জন্য ধারালো নখ খুব গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, ওদের শিকার ধরা, আত্মরক্ষা কিংবা গাছে ওঠার জন্য সুচালো নখের প্রয়োজন। গৃহপালিত বিড়ালের সেই প্রয়োজন না থাকলেও ওদের শরীরে সেই স্বাভাবিক প্রবৃত্তি এখনো রয়ে গেছে। তাই ওরা সুযোগ পেলেই নখ ঘষে এবং আঁচড়ায়।
৩. মানসিক চাপ থেকেও বাড়তে পারে আঁচড়ানো
বিড়াল খুব সংবেদনশীল প্রাণী। ঘরের পরিবেশে সামান্য পরিবর্তনও ওদের আচরণে প্রভাব ফেলতে পারে। নতুন বাসায় যাওয়া, নতুন মানুষ বা পোষা প্রাণী আসা, দীর্ঘ সময় একা থাকা—এসব কারণে অনেক বিড়াল উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে। এই মানসিক চাপ কমানোর উপায় হিসেবেও ওরা আঁচড়াতে পারে।
কিছু বিড়াল আবার একঘেয়েমি কাটানোর জন্যও আঁচড়ানো বাড়িয়ে দেয়। বিশেষ করে ঘরে থাকা বিড়ালদের মধ্যে এটি বেশি দেখা যায়। কারণ, ওদের বাইরের পরিবেশে ঘোরাফেরা বা শিকার করার সুযোগ থাকে না। যদি দেখেন আপনার বিড়াল হঠাৎ আগের তুলনায় অনেক বেশি আঁচড়াচ্ছে, তাহলে ওর পরিবেশ ও মানসিক অবস্থার দিকেও নজর দেওয়া জরুরি।
করণীয়
আপনার আদরের বিড়ালকে বকা বা শাস্তি দেওয়া এ ক্ষেত্রে কখনোই কার্যকর সমাধান নয়। এতে ওরা ভয় পেতে পারে, কিন্তু আঁচড়ানোর সহজাত আচরণ বন্ধ হবে না; বরং এ ক্ষেত্রে বিকল্প ব্যবস্থা তৈরি করা বেশি জরুরি।
ঘরের বিভিন্ন কোনায় আঁচড়ানোর জন্য স্ক্র্যাচিং বোর্ড রাখতে পারেন। চেষ্টা করুন সেটি এমন জায়গায় রাখতে, যেখানে বিড়াল আগে আঁচড়াতে পছন্দ করত। বিড়াল যদি সোফার একপাশে বারবার নখ বসায়, তাহলে ঠিক সেই জায়গার পাশেই একটি স্ক্র্যাচার রাখুন।
বিড়ালকে স্ক্র্যাচিং বোর্ডের ব্যবহার শেখানোর জন্য ক্যাটনিপ ব্যবহার করাও কার্যকর হতে পারে। এতে খেলতে খেলতে ওকে স্ক্র্যাচিং বোর্ডের দিকে আকৃষ্ট করা যায়। যখনই ও আসবাবপত্র ব্যবহার না করে স্ক্র্যাচার ব্যবহার করবে, তখন ওকে আদর করলে বা ছোট ট্রিট দিলে দ্রুত অভ্যাসটি রপ্ত করবে। একই সঙ্গে সোফার কিছু অংশে প্রটেকটিভ কভার ব্যবহার করা যেতে পারে।
মনে রাখা জরুরি, আঁচড়ানো বিড়ালের একটি প্রবৃত্তিগত আচরণের অংশ। এটি ওদের শরীরচর্চা, মানসিক স্বস্তি, নখের যত্ন এবং এলাকা চিহ্নিত করার উপায়। তাই এই আচরণ পুরোপুরি বন্ধ করার চেষ্টা না করে বরং সেটিকে সঠিক জায়গায় পরিচালিত করাই সবচেয়ে ভালো সমাধান।
সূত্র: ক্যাটস অরগানাইজেশন ইউকে, চিউয়ি ডটকম