ঈদযাত্রায় শিক্ষার্থীদের উচ্ছ্বাস, ১২ ঘণ্টা আগেই বাসের অপেক্ষায় ক্যাম্পাসে ভিড়

· Prothom Alo

ঈদুল আজহা ও গ্রীষ্মকালীন ছুটি উপলক্ষে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বাড়ি ফেরার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দেওয়া বাসের আসন সীমিত হওয়ায় তৈরি হয়েছে আসন নেওয়ার প্রতিযোগিতা। শুক্রবার সকালে সাড়ে আটটায় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দেশের সাতটি বিভাগের উদ্দেশে মোট ৯টি বাস ছেড়ে যাওয়ার কথা রয়েছে। তবে বাস ছাড়ার প্রায় ১২ ঘণ্টা আগে থেকেই ক্যাম্পাসে অবস্থান নিতে শুরু করেছেন অপেক্ষমাণ শিক্ষার্থীরা।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাতটার পর থেকেই বিভিন্ন মেস, হল ও বাসা থেকে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে এসে লাইনে দাঁড়ান। কেউ কেউ ব্যাগ রেখে আসন ধরে রাখছেন, আবার অনেকে বন্ধুদের সঙ্গে রাত কাটানোর প্রস্তুতিও নিয়েছেন।

Visit fish-roadgame.com for more information.

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক, শহীদ মিনার, রফিক ভবন ও একাত্তরের গণহত্যা ভাস্কর্য এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, অনেক শিক্ষার্থী বাসের সামনে মাটিতে বসে আড্ডা দিচ্ছেন। কেউ ফোনে সময় কাটাচ্ছেন, আবার কেউ চাদর বিছিয়ে অপেক্ষা করছেন। ঈদের আনন্দে বাড়ি ফেরার উচ্ছ্বাস থাকলেও বাসের আসন পাওয়া নিয়ে উৎকণ্ঠাও তাদের চোখেমুখে স্পষ্ট। শিক্ষার্থীরা জানান, আগে না এলে কাঙ্ক্ষিত আসন পাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।

শিক্ষার্থীরা বলেন, বাসের সংখ্যা ও আসনসংখ্যা সীমিত হওয়ায় বাধ্য হয়েই অনেককেই আগে এসে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। বিশেষ করে যাঁদের বাসা ক্যাম্পাস থেকে দূরে, তাঁদের দুর্ভোগ সবচেয়ে বেশি।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী রকিব হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে করে গ্রামের বাড়ি ফেরার অনুভূতিটা সত্যিই অন্য রকম। এবার তৃতীয়বারের মতো বাসায় ফিরছি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে করেই। প্রথম দুবার সিট (আসন) পেয়েছিলাম, কিন্তু এখনো বলতে পারছি না, এবার বসতে পারব কি না। তারপরও এই বাসেই যেতে চাই। কারণ, সবার সঙ্গে একসঙ্গে ফেরার আনন্দটা আলাদা।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আহাদ আদিল বলেন, ‘দাঁড়িয়ে যেতে কিছুটা কষ্ট হলেও বন্ধুদের আড্ডা, হাসি-মজা আর একসঙ্গে বাড়ি ফেরার অনুভূতি সব ক্লান্তি ভুলিয়ে দেয়। মনে হয়, এটাই তো বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের সবচেয়ে সুন্দর স্মৃতিগুলোর একটি। তবে আরেকটু ভালো হতো যদি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আরও কয়েকটি বাসের ব্যবস্থা করতে। তাহলে সবাই আরাম করে বসে যেতে পারত আর পুরো যাত্রাটা আরও আনন্দদায়ক হয়ে উঠত।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘ঈদের সময় সবারই বাড়ি যাওয়ার তাড়া থাকে। কিন্তু পর্যাপ্ত বাস না থাকায় আসন ধরার জন্য আমাদের এভাবে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। দূর থেকে যারা আসে, তারা সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ে।’

Read at source