গা ছম ছম করা রাতে যে বনে ডিসির পিছু নিয়েছিল শিকারি বাঘ

· Prothom Alo

পার্বত্য চট্টগ্রামের জীববৈচিত্র্যের ইতিহাস জানা যায় কয়েকজন ব্রিটিশ কর্মকর্তা, বন কর্মকর্তা ও গবেষকের লেখা বই থেকে। তাঁদের কেউ এসেছিলেন প্রশাসনিক দায়িত্বে, কেউ অর্থনৈতিক সম্ভাবনা যাচাই করতে, কেউ বুনো হাতি ধরতে, কেউ বনজঙ্গল ও প্রাণী পর্যবেক্ষণে ও গবেষণায়। ১৭৯৮ সালে এসেছিলেন ফ্রান্সিস বুকানন। ১৮৬০-এর দশকে পার্বত্য চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন থমাস হারবার্ট লুইন, যিনি টি এইচ লুইন নামে পরিচিত। পরে আর এইচ স্নেইড হাচিনসন পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে লিখেছেন বিস্তারিত বিবরণ। জর্জ পি স্যান্ডারসন এসেছিলেন বুনো হাতি ধরার অভিযানে। পাকিস্তান আমলের ঊর্ধ্বতন বন কর্মকর্তা ইউসুফ এস আহমেদ কাচালং বন ও পার্বত্য চট্টগ্রামের বন্য প্রাণী নিয়ে লিখেছেন। সাম্প্রতিক সময়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক মনিরুল খান দীর্ঘ সময় ধরে পাহাড়ে ঘুরে লিখেছেন পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রাণবৈচিত্র্য নিয়ে।

প্রকৃতিতে শীতের আগমন ধ্বনি। এমন সময়ে পার্বত্য চট্টগ্রামের দক্ষিণ সীমান্তের পাহাড়ি এলাকা জরিপ করার দায়িত্ব পড়ল জেলা প্রশাসক (ডিসি) থমাস হারবার্ট লুইনের কাঁধে। ব্রিটিশ সরকারের দেওয়া দায়িত্ব পালনে নভেম্বরের শেষ দিকে প্রায় ৯০ জনের একটি দল নিয়ে রওনা হন অজানা পাহাড়ি অঞ্চলের দিকে। উদ্দেশ্য ছিল নতুন আবিষ্কৃত এলাকার মানচিত্র তৈরি।

Visit mwafrika.life for more information.

কিন্তু যাত্রা সহজ ছিল না। ১৫ দিন না যেতেই সরকারি সার্ভেয়ার আর এগোতে চাইলেন না। লুইন নিজের লোকজন নিয়ে পথঘাটহীন আদিম বনভূমির ভেতর দিয়ে এগিয়ে যেতে থাকেন। তখন শীতের তীব্রতা বাড়ছে। খাবারের মজুত কমে আসছে। চারদিকে বাঘ, গন্ডার ও বন্য হাতির আবাস। দেখা পেয়েছিলেন জলহস্তী, অজগরেরও।

এই অভিযানে একবার একটি শিকারি বাঘ দুই দিন দুই রাত তাঁদের পিছু নিয়েছিল। পাহাড়ের নিস্তব্ধ রাত। চারপাশে গা ছম ছম করা আঁধার। এমন রাতের অন্ধকারে তাঁদের শিবিরের চারপাশে চক্কর দিত সেই বাঘ। যদিও কোনো ক্ষতি করেনি। এভাবেই তাঁদের ক্রিসমাস কেটেছিল জনমানবহীন জঙ্গলে, নিকটবর্তী বসতি থেকে অন্তত সাত দিনের দূরত্বে। পৌঁছে গিয়েছিলেন সাঙ্গু নদের পাড়ে অবস্থিত চিমা এলাকা পর্যন্ত, যা ছিল বোমাং রাজ্যের সীমানার মধ্যে।

এমন ঘটনা ঘটেছিল দেড় শ বছরের আগে, ১৮৭২ সালে। ওই সময়ের পার্বত্য অঞ্চলের বৈচিত্র্যসমৃদ্ধ জীববৈচিত্র্যের বর্ণনা পাওয়া যায় পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রথম ব্রিটিশ জেলা প্রশাসক থমাস হারবার্ট লুইনের (টি এইচ লুইন নামে পরিচিত) বইয়ে।

পার্বত্য চট্টগ্রামের রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা নিয়ে লেখা তাঁর স্মৃতিকথা আ ফ্লাই অন দ্য হুইল প্রকাশিত হয়েছিল ১৮৮৫ সালে। এই বইয়ের পার্বত্য চট্টগ্রাম সম্পর্কিত অধ্যায়গুলো নিয়ে হারুন রশীদের অনুবাদ গ্রন্থ ‘থাংলিয়ানা: পার্বত্য চট্টগ্রামে এক ব্রিটিশ কর্মকর্তার রোমাঞ্চকর অভিযান ১৮৬৫-১৮৭২’ ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত হয়।

রয়েল বেঙ্গল টাইগার বা বাংলার বাঘ

জীববৈচিত্র্য নিয়ে টি এইচ লুইনের এমন বর্ণনা বলে দেয়, একসময় পার্বত্য চট্টগ্রামের বন কতটা সমৃদ্ধ ছিল। সেখানে শুধু হাতি নয়, বাঘও ছিল। পাহাড়ে একসময় ছিল গন্ডার, গয়াল, হরিণ, ভালুক, উল্লুক, বনমোরগ, কাঠ ময়ূর, দেওহাঁসসহ অসংখ্য প্রাণী। আজকের পর্যটনকেন্দ্র, রাস্তা, পাকা স্থাপনা, জনবসতি আর কংক্রিটের ভিড়ের বহু আগে এই পাহাড়ি অঞ্চল ছিল বন্য প্রাণীদের নিজস্ব রাজ্য।

কিন্তু সেই পাহাড় এখন বদলে গেছে। বাঘ প্রায় স্মৃতি। গন্ডার নেই। অনেক প্রাণী বিলুপ্ত বা বিলুপ্তপ্রায়। হাতি আছে, তবে সংকুচিত আবাসে, মানুষের সঙ্গে সংঘাতে। বনের বুক চিরে রাস্তা হয়েছে, পাহাড়চূড়ায় উঠেছে রিসোর্ট, পর্যটনের আবর্জনায় ঢেকে যাচ্ছে সবুজ। যে পাহাড়ে একসময় বাঘ হাতি শিকার করত, সেই পাহাড়ের বন্য প্রাণীদের শেষ আশ্রয়স্থলগুলো আর কত দিন টিকবে?

বইয়ের পাতায় পাহাড়ি বন

পার্বত্য চট্টগ্রামের জীববৈচিত্র্যের ইতিহাস জানা যায় কয়েকজন ব্রিটিশ কর্মকর্তা, বন কর্মকর্তা ও গবেষকের লেখা বই থেকে। তাঁদের কেউ এসেছিলেন প্রশাসনিক দায়িত্বে, কেউ অর্থনৈতিক সম্ভাবনা যাচাই করতে, কেউ বুনো হাতি ধরতে, কেউ বনজঙ্গল ও প্রাণী পর্যবেক্ষণে ও গবেষণায়।

১৭৯৮ সালে এসেছিলেন ফ্রান্সিস বুকানন। ১৮৬০-এর দশকে পার্বত্য চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন থমাস হারবার্ট লুইন, যিনি টি এইচ লুইন নামে পরিচিত। পরে আর এইচ স্নেইড হাচিনসন পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে লিখেছেন বিস্তারিত বিবরণ। জর্জ পি স্যান্ডারসন এসেছিলেন বুনো হাতি ধরার অভিযানে।

পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রথম জেলা প্রশাসক টি এইচ লুইন।

পাকিস্তান আমলের ঊর্ধ্বতন বন কর্মকর্তা ইউসুফ এস আহমেদ কাচালং বন ও পার্বত্য চট্টগ্রামের বন্য প্রাণী নিয়ে লিখেছেন। সাম্প্রতিক সময়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক মনিরুল খান দীর্ঘ সময় ধরে পাহাড়ে ঘুরে লিখেছেন পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রাণবৈচিত্র্য নিয়ে।

এই লেখকদের বর্ণনায় পার্বত্য চট্টগ্রাম উঠে এসেছে বিস্ময়কর জীববৈচিত্র্যের ভূখণ্ড হিসেবে। তাঁরা কেউ বাঘের মুখোমুখি হয়েছেন, কেউ হাতির, কেউ গন্ডারের, কেউ দেখেছেন বিরল পাখি। আবার কেউ সরাসরি বাঘ না দেখলেও স্থানীয় পাহাড়ি মানুষের মুখে শুনেছেন তার উপস্থিতির কথা।

১৩ হাজার ২৯৫ বর্গকিলোমিটার আয়তনের পার্বত্য চট্টগ্রামই বাংলাদেশের একমাত্র উঁচু পাহাড় শ্রেণির অঞ্চল। এখানে রয়েছে প্রাকৃতিক চিরসবুজ বন, বাঁশঝাড়, ঝোপঝাড়, নলখাগড়া, জলাভূমি ও পাহাড়ি নদী। সুন্দরবনের পর দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বনাঞ্চলের অবস্থান এই পার্বত্য অঞ্চলে। এর মধ্যে কাসালং সংরক্ষিত বনকে দেশের অন্যতম জীববৈচিত্র্যসমৃদ্ধ এলাকা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

মাইনী নদীর পাড়ে বাঘ-হাতি দর্শন লুইনের

টি এইচ লুইনের বর্ণনায় পার্বত্য চট্টগ্রামের দক্ষিণ প্রান্তের মতো উত্তর প্রান্তও ছিল বন্য প্রাণীতে সমৃদ্ধ। ১৮৭৩ সালে মাইনী নদী ধরে নৌকায় করে যাওয়ার সময় তিনি দেখেন, একটি বিশাল বন্য হাতি পাহাড় থেকে নেমে আসা ঝরনায় স্নান করছে। নদী অগভীর, দ্রুত নৌকা চালানো সম্ভব নয়। আবার পালাতে গেলে হাতির আক্রমণের ভয়। শেষ পর্যন্ত তাঁরা নীরবে অপেক্ষা করেন। হাতি স্নান শেষে জঙ্গলে ঢুকে গেলে সবাই হাঁপ ছেড়ে বাঁচেন।

পাহাড়ে ব্রিটিশ সৈন্যদের শিকারির সময়

একই দিনে আরেকটি দৃশ্য তাঁকে মুগ্ধ করে। নৌকা থেকে নেমে হাঁটতে গিয়ে তিনি একটি টিলার ওপরে ওঠেন। উল্টো পাশে সবুজ ঘাসের মধ্যে শুয়ে আছে এক বাঘিনী। তার দুই শাবক মায়ের দুধ খাচ্ছে। দুধ খাওয়া শেষে শাবক দুটি ঘাসের ওপর খেলতে থাকে। দৃশ্যটি এতটাই মনোমুগ্ধকর ছিল যে লুইন কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকেন। পরে বিপদ বুঝে দ্রুত সরে যান।

লুইনের বর্ণনায় পাহাড়ে ছিল হাতি, আসামি গন্ডার, গিবন, মেছো বানর, লেমুর, বাদুড়, কালো ভালুক, বনবিড়াল, কাঠবিড়ালি, বুনো শূকর, বুনো মহিষসহ নানা প্রাণী। তিনি একসময় এক থেকে দেড় শ হাতির একেকটি দল ঘুরে বেড়ানোর দৃশ্য দেখেছিলেন পাহাড়ে।

জীববৈচিত্র্য নিয়ে টি এইচ লুইনের এমন বর্ণনা বলে দেয়, একসময় পার্বত্য চট্টগ্রামের বন কতটা সমৃদ্ধ ছিল। সেখানে শুধু হাতি নয়, বাঘও ছিল। পাহাড়ে একসময় ছিল গন্ডার, গয়াল, হরিণ, ভালুক, উল্লুক, বনমোরগ, কাঠ ময়ূর, দেওহাঁসসহ অসংখ্য প্রাণী। আজকের পর্যটনকেন্দ্র, রাস্তা, পাকা স্থাপনা, জনবসতি আর কংক্রিটের ভিড়ের বহু আগে এই পাহাড়ি অঞ্চল ছিল বন্য প্রাণীদের নিজস্ব রাজ্য।

হস্তীশাবকের গলায় বাঘের কামড়

পার্বত্য নদী পাড়ি দিয়ে অজানা গন্তব্যে যাত্রা

পাহাড়ের বুক চিরে বয়ে চলেছে নদী। দুই পাশে ঘন অরণ্য। আকাশ ছুঁয়ে দাঁড়িয়ে থাকা বৃক্ষরাজি, বাঁশঝাড়, ঝোপঝাড় আর নিস্তব্ধ পাহাড়ি জঙ্গল। সেই অরণ্যে বাঘ, হাতি, হরিণ, উল্লুক, গয়াল, ভালুকসহ অসংখ্য বন্য প্রাণীর অবাধ বিচরণ।

নদীর পাশের ঝোপে নিঃশব্দে শিকারের অপেক্ষায় বাঘ। কিছু দূরে হাতির দল। সুযোগ বুঝে বাঘটি আক্রমণ করল একটি হস্তীশাবককে। গলায় আঘাত করে মাটিতে ফেলে দিল। রক্তাক্ত দেহ নিয়ে শাবকটি বাঁচার চেষ্টা করলেও শেষরক্ষা হলো না। পরে শাবকটির দেহ টেনে নিয়ে যাওয়া হয় জঙ্গলের ভেতরে। তবে বাঘেরও শেষরক্ষা হয়নি। শিকারির বন্ধুকের গুলিতে তারও মৃত্যু হয়।

পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ে বাঘের আক্রমণে হস্তীশাবকের এমন মৃত্যুর বর্ণনা পাওয়া যায় ব্রিটিশ কর্মকর্তা জর্জ পি স্যান্ডারসনের থার্টিন ইয়ারস অ্যামং দ্য ওয়াইল্ড বিস্টস অব ইন্ডিয়া বইয়ে। এই বইয়ের অংশবিশেষ নিয়ে চলতি বছর প্রকাশিত হয়েছে ইশতিয়াক হাসানের অনুবাদগ্রন্থ ‘বাংলার পাহাড়ে-জঙ্গলে ঢাকা থেকে পার্বত্য চট্টগ্রাম’।

ব্রিটিশ নাগরিক জর্জ পি স্যান্ডারসন চাকরি সূত্রে দেড় শ বছর আগে পার্বত্য চট্টগ্রামে এসেছিলেন বুনো হাতি শিকারে। তিনি ১৮৭৫ সালের ডিসেম্বরে কলকাতা থেকে সমুদ্রপথে চট্টগ্রামে আসেন। এরপর রওনা দেন পার্বত্য চট্টগ্রামের দিকে। তাঁর অভিযান ছিল চেঙ্গী ও মাইনী নদীর উজানে। কর্ণফুলী নদী হয়ে ৬০টি নৌকা নিয়ে দলটি এগোয়। সঙ্গে ছিল পোষা হাতি, মাহুত ও কর্মী।

হাতি ধরার অভিযানে যাওয়া কর্মকর্তাদের তাঁবু। সে তাঁবুতে হামলা করে মধ্যরাতের অবাঞ্ছিত অতিথি। ‘বাংলার পাহাড়ে–জঙ্গলে ঢাকা থেকে পার্বত্য চট্টগ্রাম’ বই থেকে নেওয়া।

বুনো হাতি ধরার সফল অভিযান শেষে মাইনী উপত্যকা ধরে ফিরছিলেন স্যান্ডারসন। পথে তাঁদের ১২ নম্বর শিবিরে খবর আসে, একটি বাঘ হস্তীশাবক মেরে খেয়েছে। শাবকটির উচ্চতা প্রায় সাড়ে চার ফুট, ওজন আনুমানিক ৬০০ পাউন্ড। সেটি শিবিরের কাছেই জঙ্গলের ধারে দাঁড়িয়ে ছিল। অন্য হাতি ও দলের সদস্যদের তাঁবু থেকে মাত্র ২০ গজ দূরে।

পার্বত্য চট্টগ্রামের বনে কি আসলে বাঘ আছে

বাঘটি শাবকের গলায় কামড় বসিয়েছিল। শরীরের আর কোথাও আঘাতের দাগ ছিল না। শাবকটিকে কিছু দূর টেনে নিয়ে পেছনের অংশ থেকে মাংস খাওয়া হয়েছিল। ঘটনা শুনে স্যান্ডারসনের মনে বাঘ শিকারের চিন্তা আসে। তিনি নিজের হাতির পিঠে চড়ে মৃতদেহের কাছে যান।

সেখানে গিয়ে তিনি দেখতে পান, নদীর ধারে ঘন কাঁটাঝোপে ভরা বাঁশঝাড়। তাঁর ধারণা, বাঘটি খাওয়ার পর ওই বাঁশঝাড়েই আশ্রয় নিয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের সময় মাহুত নীরবে আঙুল তুলে তাঁকে সতর্ক করেন। বাঁ দিকে, মাত্র ১৫ গজ দূরে বাঘটি শুয়ে আছে। ভরপেট খাওয়ার পর বিশ্রাম নিচ্ছে। স্যান্ডারসন গুলি করেন। বাঘটি সেখানেই মারা যায়।

বাঘটি ছিল শক্তিশালী ও প্রবীণ। দৈর্ঘ্যে ৯ ফুট, ওজন ৩৪৯ পাউন্ড। স্যান্ডারসনের ধারণা, হাতির পাল ঘেঁষে ঘুরতে ঘুরতে সুযোগ পেলে তারা (বাঘ) মাঝেমধ্যে এমন শাবক শিকার করত। তাই এই বাঘটির জন্যও এটি সম্ভবত প্রথম অভিজ্ঞতা ছিল না। বরং আগে বহুবারই হস্তীশাবকের মাংস খেয়েছে।

১৮৭৬ সালের ১ জানুয়ারি এখনকার খাগড়াছড়ির মহালছড়ি উপজেলার মাইসছড়ি বা ক্যায়াংঘাট এলাকায় স্যান্ডারসনের দল ক্যাম্প করে। চেঙ্গী নদীর ধার ঘেঁষে তিনি প্রচুর হরিণ দেখেন। পথে দেখেন বনমোরগ, মথুরা বা কালিজ ফিজ্যান্ট ও কাঠ ময়ূর।

বুনো হাতি ধরার অভিযান হয় গাছবান ও দীঘিনালার মাঝামাঝি কোনো এক স্থানে। সেখানে বানানো হয় হাতি ধরার খেদা। মোটা বাঁশ বা গাছের খুঁটি ১২ ফুট উঁচু করে পোঁতা হয়। বাঁশপাতার তৈরি দিকনির্দেশক ডানা বানানো হয়, যাতে বুনো হাতির দলকে খেদার ভেতরে ঢোকানো যায়।

অভিযানের এক পর্যায়ে হাতির দল কাশবনের ভেতর ঢুকে পড়ে। ভিজে কাদা, ছড়া আর ঝোপঝাড়ে আটকে গিয়ে পাগলপ্রায় ছটফট করতে থাকে হাতিগুলো। এভাবে ৩৭টি হাতি আটকা পড়ে। সব মিলিয়ে এই অভিযানে ৮৫টি বুনো হাতি ধরা পড়েছিল।
স্যান্ডারসন এই সফরকে তাঁর জীবনের সবচেয়ে বৈচিত্র্যময় ও আনন্দময় সফরগুলোর একটি বলেছেন।

হাচিনসনের চোখে পার্বত্য চট্টগ্রাম ছিল ছবির মতো সুন্দর। ফেনী, কর্ণফুলী, সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদী উপত্যকার ঢেউখেলানো পাহাড়, ঘন জঙ্গল আর সংরক্ষিত বন মিলিয়ে অঞ্চলটি ছিল প্রায় দুর্ভেদ্য আদিম অরণ্য। তাঁর হিসাবে, তখন পার্বত্য চট্টগ্রামে ১ হাজার ৩৮৩ বর্গমাইল সংরক্ষিত বন ছিল। তবে সংরক্ষিত বন ছাড়াও পাহাড়ের বড় অংশজুড়ে ছিল গভীর অরণ্য।

হাচিনসনের চোখে জীববৈচিত্র্যের পাহাড়

আর এইচ স্নেইড হাচিনসন ১৮৯০ সালে পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রশাসনিক দায়িত্বে আসেন। ১৯০৬ সালে প্রকাশিত তাঁর অ্যান অ্যাকাউন্ট অব দ্য চিটাগাং হিল ট্র্যাক্টস বইয়ে ১৮৯০ থেকে ১৯০১ সালের পার্বত্য চট্টগ্রামের বিবরণ পাওয়া যায়।

হাচিনসনের চোখে পার্বত্য চট্টগ্রাম ছিল ছবির মতো সুন্দর। ফেনী, কর্ণফুলী, সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদী উপত্যকার ঢেউখেলানো পাহাড়, ঘন জঙ্গল আর সংরক্ষিত বন মিলিয়ে অঞ্চলটি ছিল প্রায় দুর্ভেদ্য আদিম অরণ্য। তাঁর হিসাবে, তখন পার্বত্য চট্টগ্রামে ১ হাজার ৩৮৩ বর্গমাইল সংরক্ষিত বন ছিল। তবে সংরক্ষিত বন ছাড়াও পাহাড়ের বড় অংশজুড়ে ছিল গভীর অরণ্য।

এই বনে তিনি উল্লেখ করেছেন অন্তত তিন ধরনের হরিণ, বনছাগল, দুই শিংয়ের গন্ডার, হাতি, তিন ধরনের ভালুক, মার্বেল ক্যাট, গয়াল, বনগরু, চিতাবাঘ, বেঙ্গল টাইগার, বন্য শূকর, বনমোরগ, ময়ূর, কাঠবিড়ালি, বন্য মহিষ, অজগর, বিষধর সাপ ও নদীর হাঙরের কথা। এর মধ্যে আধা পোষমানা গয়াল ও হরিণের সংখ্যা ছিল বেশি।

হাচিনসন লিখেছেন, রাঙামাটির থেগা, মাইনি ও থুইচংয়ের পাহাড়ি এলাকায় গন্ডারের অবাধ বিচরণ ছিল। ভোরবেলায় গন্ডারের দেখা পাওয়া যেত। এখন পার্বত্য চট্টগ্রামে গন্ডার নেই। তাই এই বর্ণনা শুধু প্রাণীবৈচিত্র্যের বিবরণ নয়, হারিয়ে যাওয়া এক অরণ্য জগতের স্মারকও।

নিজের বাঘের মুখোমুখি হওয়ার অভিজ্ঞতাও লিখেছেন হাচিনসন। ১৯০১ সালের বড়দিনে তিনি বনমোরগ শিকারে জঙ্গলে ঢুকেছিলেন। হঠাৎ দেখেন পাহাড় থেকে একটি বাঘ নেমে তাঁর দিকে আসছে। বাঘটি প্রায় ১৫০ ফুট দূরে এলে তিনি গুলি করেন। আরেকবার একটি বাঘ তাঁর সঙ্গীদের মাথার ওপর দিয়ে লাফিয়ে পালিয়ে যায়।

পার্বত্য চট্টগ্রামের বনে দেখা মিলেছে চিতা বাঘের

এক বাঘিনীকে বাঁচাতে চেয়েছিলেন বন কর্মকর্তা

পাকিস্তান আমলে বন বিভাগের ইন্সপেক্টর জেনারেল অব ফরেস্ট ছিলেন ইউসুফ এস আহমেদ। পার্বত্য চট্টগ্রামের সঙ্গে তাঁর কর্মজীবনের সম্পর্ক ছিল ২৮ বছরের। বন বিভাগে বর্ণাঢ্যময় চাকরি জীবনের অভিজ্ঞতা নিয়ে তিনি লিখেছেন ‘উইথ দ্য ওয়াইল্ড অ্যানিমেলস অব বেঙ্গল’। ইশতিয়াক হাসানের করা অনুবাদ প্রকাশিত হয়েছে গত বছর।

পার্বত্য চট্টগ্রামে দায়িত্ব পালনের সময় মাত্র একবার বাঘের দেখা পেয়েছিলেন ইউসুফ এস আহমেদ। সে স্মরণীয় ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি লিখেছেন, ১৯৩০ থেকে ১৯৫৮ সাল পর্যন্ত কাচালং সংরক্ষিত বনের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ছিল। এত দীর্ঘ সময়ে তিনি সেখানে বাঘ দেখেছেন মাত্র একবার। সময়টা ১৯৫০ সালের অক্টোবর।

বইয়ের বর্ণনা অনুযায়ী, বাঘ শিকারের জন্য একটি মাচায় বসেছিলেন বিভাগীয় বন সংরক্ষক। আরেক মাচায় ছিলেন ইউসুফ এস আহমেদ। সন্ধ্যার আগে জঙ্গল থেকে বেরিয়ে আসে এক পূর্ণ বয়স্ক বাঘিনী। সে হুংকার দেয়নি। বরং বিড়ালের মতো মিউ মিউ শব্দ করতে থাকে। কিছুক্ষণ পর গুল্মের ভেতর থেকে একটি ব্যাঘ্রশাবক বেরিয়ে মায়ের কাছে আসে। বাঘিনী কাত হয়ে শুয়ে পড়ে। শাবকটি প্রায় ১৫ মিনিট ধরে দুধ পান করে।

দৃশ্যটি ইউসুফ এস আহমেদের মন নরম করে দেয়। তিনি বাঘিনীকে সরাসরি গুলি করেননি। ফাঁকা গুলি করে এলাকা থেকে সরিয়ে দেন। তাঁর আশা ছিল, বাঘিনী এলাকা ছেড়ে চলে যাবে। কিন্তু পরে তিনি জানতে পারেন, বাঘিনীটি বাঁচেনি। একদিন সেটি চাকমাদের একটি পাড়ায় ঢুকে খোঁয়াড় থেকে গরু ধরে মেরে ফেলে। গরুর মালিক রাগে-ক্ষোভে বাঘিনীর গুহায় গিয়ে তাকে গুলি করে মারেন।

এই ঘটনা পার্বত্য চট্টগ্রামের বাঘের শেষ অধ্যায়ের এক করুণ প্রতীক। বাঘ তখনো ছিল। কিন্তু মানুষের বসতি, গবাদিপশু ও বনের সীমানা ক্রমেই কাছাকাছি আসছিল। সংঘাত অনিবার্য হয়ে উঠছিল।

রাঙামাটির কাপ্তাই জাতীয় উদ্যানে কাঠময়ূর। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মনিরুল খানের লেখা পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রাণবৈচিত্র্যের সন্ধানে বই থেকে নেওয়া।

বাঘের পাশাপাশি পাহাড়ে বুনো হাতি, মথুরা, কাঠ ময়ূর দেখেছিলেন ইউসুফ এস আহমেদ। এমনকি ১৯৩৩ সালের ফেব্রুয়ারি হোয়াইট উইংড উড ডাক বা দেওহাঁস শিকার করেছিলেন তিনি। অবশ্য এই পাখিকে পরবর্তীকালে সংরক্ষিত পাখি হিসেবে ঘোষণা করা হয়। বর্তমানে এই পাখির দেখা পাওয়া যায় না বললেই চলে।

এখনো কি বাঘ আছে?

পার্বত্য চট্টগ্রামের জীববৈচিত্র্য নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ের গুরুত্বপূর্ণ বই লিখেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক মনিরুল খান। ২০০৩ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত পাহাড়ে গবেষণা, জরিপ ও অনুসন্ধিৎসু মন নিয়ে ঘুরেছিলেন তিনি। এসব অভিজ্ঞতা নিয়ে তিনি লিখেছেন ‘পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রাণবৈচিত্র্যের সন্ধানে’।
মনিরুল খানের মতে, পার্বত্য চট্টগ্রাম বাংলাদেশের সবচেয়ে বৈচিত্র্যময় এলাকা। শুধু জীববৈচিত্র্য নয়, প্রাকৃতিক দৃশ্য ও মানুষের বৈচিত্র্যের দিক থেকেও এই অঞ্চল অনন্য। এখানকার আবাসস্থলের বৈচিত্র্য দেশের অন্য যেকোনো এলাকার তুলনায় বেশি। তাই বন্য প্রাণীর বৈচিত্র্যও বেশি।

বিশ্বের অন্যতম ইন্দো-বার্মা বায়োডাইভার্সিটি হটস্পটের পশ্চিম অংশে পড়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম। তাঁর বইয়ে উল্লেখ আছে, এ অঞ্চলে ৮৭ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণী, ৫৯৭ প্রজাতির পাখি, ১০৪ প্রজাতির সরীসৃপ, ৪৫ প্রজাতির উভচর, প্রায় ৩ হাজার প্রজাতির উদ্ভিদসহ অসংখ্য মাছ ও অমেরুদণ্ডী প্রাণী পাওয়া যায়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এখানে এমন কিছু প্রাণী ও উদ্ভিদ পাওয়া গেছে, যা বাংলাদেশের জন্য নতুন।

পাহাড়ে ঘুরে তিনি দেখেছেন বিরল রাজ ধনেশ, বিরল কাঠঠোঁকরা, নীলকণ্ঠ, বড় ভীমরাজ, ক্রো-বিলড ড্রঙ্গো, লালমাথা ট্রোগনসহ নানা পাখি। কাসালং বনের গভীরে গিয়ে তিনি উল্লুক, হনুমান, ভালুক বানর, হরিণ–জাতীয় প্রাণী ও বন্য হাতির উপস্থিতির তথ্য পেয়েছেন।

স্থানীয় পাহাড়ি মানুষের সঙ্গে কথা বলে তিনি জানতে পেরেছেন, কোনো কোনো বড় বনে এখনো হাতি, গয়াল, চিতাবাঘ, ভালুক, বন্য কুকুর, সাম্বার হরিণ, প্যারা হরিণ, মায়া হরিণের মতো বড় প্রাণী টিকে আছে। স্থানীয়দের কেউ কেউ তাঁকে জানিয়েছেন, অতীতে বাঘও ছিল। ১৯৭৪ সালেও একটি বাঘ শিকার হওয়ার কথা তাঁরা বলেছেন। ২০০১ সালের দিকে বাঘ গরু মেরেছিল বলেও স্থানীয়দের দাবি; পরে বিষটোপ দিয়ে বাঘটি হত্যা করা হয়।

তবে বৈজ্ঞানিক জরিপে সাম্প্রতিক সময়ে পার্বত্য চট্টগ্রামে বাঘের নিশ্চিত উপস্থিতি মেলেনি। গভীর বনে চিতাবাঘের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। গত বছরের জুনে দুর্গম সংরক্ষিত বনে ক্যামেরা ফাঁদে চিতাবাঘের ছবি ধরা পড়েছে। কিন্তু বেঙ্গল টাইগারের বর্তমান উপস্থিতি এখনো অনিশ্চিত।

হাচিনসনের শত বছর আগের শঙ্কা ও বর্তমান বাস্তবতা

পার্বত্য চট্টগ্রামের বন ও বন্য প্রাণীর টিকে থাকা নিয়ে এক শ বছরের বেশি আগে শঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন তৎকালীন জেলা প্রশাসক হাচিনসন। তিনি লিখেছিলেন, ‘অচিরেই হাতি এবং বাঘের আবাসস্থল এই নীরব অন্ধকার বনের অধিকার নেবে উজ্জ্বল শস্যখেত। সেই সঙ্গে হারিয়ে যাবে সহজ-সরল পাহাড়িদের বিচিত্র জীবনের নানা অনুষঙ্গ ও আচার-উপাচার। এমনটা যে ঘটবে, সে বিষয়ে বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই আমার।’

আজ সেই আশঙ্কা অনেকটাই বাস্তব। অতীতের দুর্গম বনভূমি এখন অনেক জায়গায় রাস্তা, জনবসতি, কৃষি সম্প্রসারণ, পর্যটনকেন্দ্র ও পাকা স্থাপনায় বদলে গেছে। যেখানে একসময় মানুষের পায়ের ছাপ পড়ত না, সেখানে এখন গাড়ি যায়। পাহাড়ের ভেতর দিয়ে পিচঢালা রাস্তা হয়েছে। গভীর বন কেটে তৈরি হয়েছে বসতি, বাজার, পর্যটনকেন্দ্র।

অধ্যাপক মনিরুল খান সাজেকের পরিবর্তন দেখে যে অনুভূতি লিখেছেন, তা এই বদলের একটি গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য। ১০ বছর পর ২০২১ সালের জুলাইয়ে সাজেকের পাহাড়চূড়ায় ফিরে এসে তিনি দেখেন, একসময়কার সাজানো-গোছানো ছোট পাহাড়ি গ্রাম এখন কংক্রিটের অট্টালিকায় ভরা পর্যটনকেন্দ্র। রাস্তার দুই পাশে পাহাড়ের ঢালে জমেছে প্লাস্টিকসহ নানা আবর্জনা। আধুনিক সুযোগ-সুবিধা এসেছে। মানুষ সুখী। কিন্তু দুঃখী সেই হারিয়ে যাওয়া নির্মল সবুজ, যা ধীরে ধীরে কংক্রিট আর আবর্জনায় ঢাকা পড়ছে।

পার্বত্য চট্টগ্রামের অতীত পড়লে বিস্ময় জাগে। বর্তমান দেখলে তৈরি হয় অস্বস্তি। যে পাহাড়ে একসময় বাঘ হাতি শিকার করত, গন্ডার ঘুরে বেড়াত, গয়াল ছিল, দেওহাঁস ছিল, ঘন বনে উল্লুকের ডাক শোনা যেত—সেই পাহাড়ের অনেক প্রাণী এখন নেই। যারা আছে, তারাও সংকুচিত আবাসে টিকে আছে কোনোরকমে।

তবু জীববৈচিত্র্যের সমৃদ্ধ আধার এখনো শেষ হয়ে যায়নি। কাসালং, সাঙ্গু, মাতামুহুরী, রেমাক্রি, সাজেকের গভীর বনাঞ্চলসহ পার্বত্য চট্টগ্রামের কিছু অংশে এখনো বিরল প্রাণী টিকে আছে। চিতাবাঘের ছবি ধরা পড়ে। হাতির দল দেখা যায়। বিজ্ঞানীরা মনে করেন, এ অঞ্চলে নতুন প্রজাতি আবিষ্কারের সম্ভাবনা আছে।

কিন্তু এই সম্ভাবনা রক্ষা করতে হলে পার্বত্য চট্টগ্রামকে শুধু পর্যটন বা উন্নয়ন প্রকল্পের চোখে দেখলে চলবে না। এটিকে দেখতে হবে বাংলাদেশের শেষ বড় পাহাড়ি জীববৈচিত্র্যের আশ্রয়স্থল হিসেবে। বন সংরক্ষণ, বন্য প্রাণীর চলাচলের পথ রক্ষা, পর্যটন নিয়ন্ত্রণ, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ, বৈজ্ঞানিক জরিপ এবং মানুষ-প্রাণী সংঘাত কমানোর দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ দরকার।

কারণ, পার্বত্য চট্টগ্রামের ইতিহাস শুধু পাহাড়ের ইতিহাস নয়; এটি বাংলাদেশের হারিয়ে যাওয়া বনজঙ্গল ও জীববৈচিত্র্যের ইতিহাস। বইয়ের পাতায় যে বাঘ হাতি শিকার করে, বাস্তবের পাহাড়ে তার ছায়াও প্রায় মুছে গেছে। এখন প্রশ্ন একটাই, শেষ যে সবুজ, শেষ যে প্রাণীরা টিকে আছে, তারা কি আদৌ টিকে থাকবে?

Read at source