ঝিনাইদহে যমজ মেয়ে জন্ম হওয়ায় স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার অভিযোগ
· Prothom Alo

ঝিনাইদহের মহেশপুরে যমজ কন্যাসন্তান প্রসব করায় যৌতুকের জন্য রীনা খাতুন (২২) নামের এক তরুণীকে তালাক দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ওই নারী তাঁর স্বামীর বিরুদ্ধে নির্যাতন ও যৌতুক দাবির অভিযোগে বিচারের দাবি করেছেন। পিতৃহীন ওই তরুণী গ্রামের মাতবর ও থানা-পুলিশ করেও কোনো সুরাহা পাননি বলে অভিযোগ।
Visit freshyourfeel.org for more information.
রীনা খাতুন উপজেলার কাজীরবেড় ইউনিয়নের পুরাতন কোলা গ্রামের প্রয়াত পীর বক্সের মেয়ে। তিনি সম্প্রতি মহেশপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর প্রতিকার চেয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, পাশের নতুন কোলা গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে রাকিবুল ইসলামের সঙ্গে গত বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে রীনা খাতুনের বিয়ে হয়। ১৪ মাস আগে অন্তঃসত্ত্বা হন রীনা। পরে জানতে পারেন, গর্ভে দুটি যমজ কন্যাসন্তান আছে। এরপর থেকেই মানসিক নির্যাতন শুরু হয় তাঁর ওপর। একপর্যায়ে বাবার বাড়িতে মায়ের কাছে চলে আসেন। একটি প্রাইভেট ক্লিনিকে সিজারের মাধ্যমে দুটি কন্যাসন্তানের জন্ম দেন রীনা। বর্তমানে বাচ্চা দুটির বয়স প্রায় ছয় মাস; কিন্তু একবারের জন্যও রাকিবুলের পরিবারের কেউ খোঁজ নেননি।
লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, স্থানীয় লোকজন মীমাংসার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। তাঁর গর্ভে দুটি মেয়ে সন্তান আছে জানার পর স্বামীর পরিবারের সদস্যদের মানসিক নির্যাতন এক পর্যায়ে শারীরিক নির্যাতনের পর্যায়ে চলে যায়। এ নিয়ে গ্রামের মাতবররা মীমাংসার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। এমনকি থানা-পুলিশ করেও কোনো সুরাহা মেলেনি। কয়েক দিন আগে স্বামী রাকিবুল ডাক বিভাগের মাধ্যমে তালাকনামা পাঠিয়েছেন।
রীনা খাতুন বলেন, ‘কন্যাসন্তান হওয়ায় আমার কি কোনো হাত আছে? এখানে আমার কী দোষ? কন্যাসন্তান হয়েছে বলে আমাকে নির্যাতন করত, যৌতুকের জন্য চাপ দিত, এক পর্যায়ে তালাক দিয়েছে। বুকের দুধের সংকুলান না হওয়ায় দুটি বাচ্চার জন্য বর্তমানে মাসে প্রায় ১২ হাজার টাকার খাবার কিনতে হচ্ছে। বাবা বেঁচে না থাকায় আমার বিধবা মা এই চাপ নিতে পারছেন না। আমাকে না দেখুক; কিন্তু তাঁর সন্তানদের দায়িত্ব তো নিতে পারে।’
এ বিষয়ে মহেশপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ঘটনা সম্পর্কে তিনি অবগত। কয়েক দিন আগে বাচ্চাদের টিকা দেওয়ার সময় ওই তরুণীর সঙ্গে কথা হয়। তাঁর মৌখিক অভিযোগ শুনে লিখিত আকারে দিতে বলেন। পরে তিনি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। আগামী বুধবার এ বিষয়ে শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে। উভয় পক্ষ শুনানিতে এলে এবং ঘটনার তদন্ত সাপেক্ষে একজন আইনজীবীর সঙ্গে পরামর্শ করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।