এক মাস পরেই কোরবানি, চট্টগ্রামের বড় পশুর হাটের ইজারা হলো কত টাকায়
· Prothom Alo

চট্টগ্রাম নগরের সবচেয়ে বড় পশুর হাট সাগরিকা পশুর হাট। প্রত্যাশিত দর না পাওয়ায় গত বাংলা সনে এই হাট ইজারা দিতে পারেনি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন। এবারও একই অবস্থা হতে চলছিল। প্রথম দুই দফায় কোনো দরপত্র ফরম জমা হয়নি। তৃতীয় দফায় তিনটি ফরম জমা পড়লেও প্রত্যাশিত দর পাওয়া যায়নি। চতুর্থ দফায় এসে কাঙ্ক্ষিত দর পাওয়া গেছে। আগামী ২৭ বা ২৮ মে চাঁদ দেখার সাপেক্ষে পবিত্র ঈদুল আজহা (কোরবানি) উদ্যাপিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তার আগেই হাটের ইজারা নিয়ে অনিশ্চয়তা দূর হলো।
Visit truewildslot.com for more information.
এবার এই হাটের ইজারা ন্যূনতম দর ছিল ৮ কোটি ২ লাখ টাকা। শেষ পর্যন্ত দর পাওয়া গেছে ৮ কোটি ৮ লাখ টাকা। ফজলে আলিম চৌধুরী নামের এক ব্যক্তি সর্বোচ্চ দর দিয়েছেন। ৬টি ফরম বিক্রি হলেও জমা পড়েছিল ৪টি। গত বৃহস্পতিবার দরপত্র বক্স উন্মুক্ত করা হয়। এখন দরপত্র কমিটির সভায় ইজারাদারকে হাট বুঝিয়ে দেওয়ার অনুমোদনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে কমিটির সভার সময় এখনো নির্ধারণ করা হয়নি।
এবার সর্বোচ্চ দর পাওয়া গেলেও তা তিন বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম। গত বছর ইজারাদার নিয়োগ দেওয়া হয়নি। ১৪৩১ বাংলা সনে হাট থেকে সিটি করপোরেশনের আয় হয়েছিল ৯ কোটি ২১ লাখ টাকা। এর আগের বছর ১৪৩০ বাংলা সনে ইজারা দেওয়া হয়েছিল ৮ কোটি ৮৮ লাখ টাকায়।
সিটি করপোরেশনের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা এস এম সরওয়ার কামাল প্রথম আলোকে বলেন, সাগরিকা পশুর হাটের জন্য প্রত্যাশিত দর পাওয়া যাচ্ছিল না। এ জন্য বারবার দরপত্র বিজ্ঞপ্তি দিতে হয়েছে। এখন সিটি করপোরেশনের দরের চেয়ে বেশি দর দিয়েছেন এক ইজারাদার। তাঁকে হাট ইজারা দেওয়া হবে।
সিটি করপোরেশনের ভূসম্পত্তি বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, বর্তমানে সিটি করপোরেশনের পশুর হাট নিয়ে ইজারাদারদের আগ্রহ কমেছে। একসময় শুধু পশুর হাটকেন্দ্রিক বেচাবিক্রি ছিল। এখন বিশেষ করে পবিত্র ঈদুল আজহার সময় মানুষ বিভিন্ন খামার থেকে সরাসরি কোরবানির পশু কিনে নেন। আবার এ সময় নগরের অলিগলি ও আশপাশের এলাকায় অনেক অবৈধ হাট বসে। ফলে পশুর হাটে আগের মতো লোকজন আসেন না।
সিটি করপোরেশন সূত্র জানায়, নিয়ম অনুযায়ী বাংলা সনের প্রথম দিন থেকে পরবর্তী এক বছরের জন্য স্থায়ী হাটগুলো ইজারা দেওয়া হয়। অর্থাৎ আগামী বছরের ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত হাট থেকে হাসিল আদায় করতে পারবেন ইজারাদার। নগরের আরেক পশুর হাট ইজারা দেওয়া হয়েছে ৬৭ লাখ টাকায়।
এদিকে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে নগরে এবার ১৬টি অস্থায়ী পশুর হাট বসাতে চায়। এসব হাট স্থাপনের জন্য চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসককে চিঠি দিয়েছে।
চট্টগ্রাম নগরে তিনটি স্থায়ী পশুর হাট রয়েছে। এগুলো হচ্ছে সাগরিকা, বিবিরহাট ও পোস্তারপাড় ছাগলের বাজার। গত বছর নগরে অস্থায়ী পশুর হাট ছিল ১০টি।
এবার নগরের বাকলিয়ার নূর নগর হাউজিংয়ে কর্ণফুলী পশুর বাজার, পতেঙ্গায় টি কে গ্রুপের খালি মাঠ, পতেঙ্গার পূর্ব হোসেন আহম্মদপাড়া সাইলো রোডের পাশে টিএসপি মাঠ ও সিআইপি জসিমের খালি মাঠ, বড়পোলের মহেশ খালের দুই পাড়ের খালি জায়গা, ওয়াজেদিয়া মোড়, আউটার রিং রোডে সিডিএ বালুর মাঠ, মোহরার জানালী হাট রেলস্টেশনের পাশে খালি জায়গা, মধ্যম হালিশহর মুনির নগর আনন্দ বাজারসংলগ্ন খালি জায়গা, সল্টগোলা রেল ক্রসিং, চৌধুরী হাট, হালিশহর পুলিশ লাইনের সামনে সড়কের পাশে, মাদারবাড়ি পোর্ট সিটি হাউজিংয়ের খালি জায়গা, পতেঙ্গা স্টিল মিল বাজার, উত্তর হালিশহর গলিচিপা পাড়া বারুনিঘাটা মাঠ এবং অলংকার গরুর মাঠ।
সিটি করপোরেশনের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা এস এম সরওয়ার কামাল বলেন, পবিত্র ঈদুল আজহায় অস্থায়ী পশুর হাট বসানোর জন্য জেলা প্রশাসনকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। হাটগুলোর বিষয়ে নগর পুলিশের (সিএমপি) অনাপত্তি প্রয়োজন। নগর পুলিশ অনাপত্তি দিলে জেলা প্রশাসন হাট বসানোর অনুমতি দেবে। জেলা প্রশাসনের অনুমতি পাওয়ার পর হাটগুলো ইজারা দেওয়ার জন্য দরপত্র বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হবে।