জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিবেশ দিবসের আলোচনা, প্লাস্টিক ব্যবহার বন্ধে কঠোর হওয়ার আহ্বান

· Prothom Alo

মানুষের জীবনযাত্রার যত উন্নতি ঘটছে, বর্জ্য উৎপাদনের পরিমাণও ততই বাড়ছে, সেই সঙ্গে হাতছাড়া হচ্ছে বর্জ্য কমানোর সুযোগ। দৈনন্দিন জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে প্লাস্টিকের অতিব্যবহার আমাদের পরিবেশকে বিপন্ন করে তুলেছে। তাই পরিবেশ দূষণমুক্ত রাখতে কেবল ব্যবহারকারী বা সাধারণ মানুষের ওপর আইন প্রয়োগ করলেই চলবে না, বরং যারা নিষিদ্ধ পলিথিন ও প্লাস্টিক উৎপাদন করছে, সেই উৎপাদকদের বিরুদ্ধেও কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে।

Visit moryak.biz for more information.

‘বিশ্ব পরিবেশ দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে আজ মঙ্গলবার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) আয়োজিত এক আলোচনা সভায় মুখ্য আলোচকের বক্তব্যে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক এম মনজুরুল হাসান এ কথা বলেন।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের আয়োজনে ‘জলবায়ু পরিবর্তনে আজকের পদক্ষেপ, আগামী নিরাপত্তা’ প্রতিপাদ্যে এদিন সকালে ক্যাম্পাসে সচেতনতামূলক শোভাযাত্রা ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করা হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

অধ্যাপক মনজুরুল হাসান বলেন, ‘সঠিক তথ্য ও সুনির্দিষ্ট পরিবেশগত বিশ্লেষণ ছাড়া শুধু কাগজে-কলমে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) নির্ধারণ কিংবা অপরিকল্পিতভাবে গাছ লাগানো কোনো সমাধান আনবে না। জলবায়ুর আন্তর্জাতিক রাজনীতিকে মাথায় রেখেই আমাদের নিজস্ব বাস্তবসম্মত ও দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় নীতিমালা তৈরি করতে হবে।’

উন্নত বিশ্বের সমালোচনা করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক মল্লিক আকরাম হোসেন আলোচনা সভায় বলেন, ‘উন্নত বিশ্ব প্রায়ই নতুন নতুন মডেল বা প্রযুক্তি নিয়ে এসে তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোর ওপর চাপিয়ে দেয়। কিন্তু তারা নিজেরা নিজেদের আরাম-আয়েশের জীবনযাত্রা ছাড়তে চায় না। এই পরিস্থিতিতে কেবল উন্নত দেশের দিকে তাকিয়ে না থেকে আমাদের নিজেদের আচরণ ও অভ্যাসের পরিবর্তন করতে হবে।’

অনুষ্ঠানে লাইফ অ্যান্ড আর্থ সায়েন্স অনুষদের ডিন অধ্যাপক মো. আব্দুল আলীম বলেন, বর্তমানে পরিবেশের জন্য সবচেয়ে বড় আতঙ্ক হলো ‘মাইক্রোপ্লাস্টিক’। দেশের এমন কোনো মাছ নেই, যার শরীরে মাইক্রোপ্লাস্টিকের কণা পাওয়া যাচ্ছে না। এসব মাছ ও খাবার খাওয়ার ফলে মানুষের শরীরে তা প্রবেশ করছে এবং লিভার (যকৃৎ) ও কিডনি বিকল এবং ডায়াবেটিসের মতো মারাত্মক রোগ আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে।

আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. রইছ উদ্দীন। জলবায়ু সংকট নিরসনে মানুষের মানসিকতা ও আচরণগত পরিবর্তনের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, পরিবেশ সংরক্ষণের শিক্ষা পরিবার থেকেই শুরু করতে হবে। নতুন প্রজন্মকে ছোটবেলা থেকেই পরিবেশবান্ধব জীবনধারায় অভ্যস্ত করে তুলতে হবে।

উপাচার্য আরও বলেন, মানুষের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের কারণে বর্তমানে গাছপালা, পাহাড়-পর্বত ও প্রাণী বৈচিত্র্য হুমকির মুখে। বৃক্ষরোপণ, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং পরিবেশবান্ধব আচরণের মাধ্যমেই জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা করা সম্ভব। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সীমিত পরিসরের কংক্রিটনির্ভর ক্যাম্পাসেও বৃক্ষরোপণ ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

সভাপতির বক্তব্যে ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের চেয়ারম্যান সৈয়দা ইশরাত নাজিয়া জানান, পরিবেশ সচেতনতা তৈরিতে এবার স্কুলশিক্ষার্থীদের নিয়ে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে শিশুরা ‘আমার পরিবেশ, পরিবেশদূষণ’ বিষয়ে তাদের সৃজনশীল ভাবনা ফুটিয়ে তুলেছে।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে আয়োজিত আলোকচিত্র (ফটোগ্রাফি) প্রতিযোগিতা এবং ঢাকার বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে অনুষ্ঠিত চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।

Read at source