‘আমাকে শেষ করে দেওয়ার জন্য সবাই এক হয়েছিল’, অভিনেত্রীর বক্তব্য নিয়ে তোলপাড়

· Prothom Alo

দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমার অন্যতম প্রশংসিত অভিনেত্রী পার্বতী থিরুভোথু আবারও চলচ্চিত্রজগতের অন্ধকার দিক নিয়ে মুখ খুলেছেন। তিনি দাবি করেছেন, একসময় তাঁকে শিল্প থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য পরিকল্পিতভাবে নানা চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল। এমনকি প্রাণনাশের হুমকি, ব্যক্তিগত আক্রমণ এবং বড় বড় ছবির সুযোগ হারানোর মতো পরিস্থিতিরও মুখোমুখি হতে হয়েছে তাঁকে। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে পার্বতী বলেন, এমন একটি সময় ছিল যখন তাঁর মনে হয়েছিল, ‘অনেক শক্তি একসঙ্গে কাজ করছে আমাকে নির্মূল করার জন্য।’

বিতর্কের পর শুরু হয় ঝড়
পার্বতীর বক্তব্য অনুযায়ী, কিছু সামাজিক ও শিল্প–সংক্রান্ত বিষয়ে প্রকাশ্যে মতামত দেওয়ার পরই পরিস্থিতি বদলে যেতে শুরু করে। তিনি জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক ট্রলিংয়ের পাশাপাশি সরাসরি হুমকিও পেয়েছেন। শুধু তা–ই নয়, চলচ্চিত্রজগতের কিছু প্রভাবশালী মহল থেকেও তাঁকে দূরে সরিয়ে রাখার চেষ্টা হয়েছে বলে তাঁর দাবি। পার্বতীর ভাষায়, ‘তখন মনে হতো, আমি যেন একা লড়াই করছি একটি শক্তিশালী ব্যবস্থার বিরুদ্ধে।’

Visit casino-promo.biz for more information.

হারিয়েছেন বড় বাজেটের ছবিও
অভিনেত্রী দাবি করেন, সেই সময় কয়েকটি বড় চলচ্চিত্রের সুযোগও তাঁর হাতছাড়া হয়। যদিও তিনি নির্দিষ্ট কোনো ছবির নাম উল্লেখ করেননি, তবে ইঙ্গিত দিয়েছেন যে বিতর্কিত বলে বিবেচিত হওয়ায় অনেক নির্মাতা তাঁকে নিয়ে কাজ করতে দ্বিধায় ছিলেন। ভারতীয় চলচ্চিত্রে নারীদের অধিকার, কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা এবং সমতার বিষয়ে সরব হওয়ার কারণেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল বলে মনে করেন তিনি।

মৃত্যুর হুমকিও পেয়েছেন
পার্বতী জানান, কেবল পেশাগত ক্ষতিই নয়, ব্যক্তিগতভাবেও ভয়াবহ চাপের মধ্যে থাকতে হয়েছিল তাঁকে। অনলাইনে নিয়মিত বিদ্বেষমূলক বার্তা, অপমানজনক মন্তব্য এবং প্রাণনাশের হুমকি পেয়েছেন বলে জানান তিনি। একজন শিল্পীর জন্য এমন পরিস্থিতি মানসিকভাবে কতটা কঠিন হতে পারে, সে কথাও তুলে ধরেন পার্বতী।

পার্বতী থিরুভোথু। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

কী তাঁকে এগিয়ে যেতে সাহায্য করেছে?
সব বাধা সত্ত্বেও হাল না ছাড়ার পেছনে সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল তাঁর বিশ্বাস, পরিবার এবং ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের সমর্থন। পার্বতী বলেন, তিনি সব সময় নিজেকে মনে করিয়ে দিয়েছেন যে নীরব থাকার চেয়ে সত্যের পক্ষে দাঁড়ানো বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এ ছাড়া সহকর্মীদের একটি অংশ এবং অসংখ্য দর্শকের সমর্থনও তাঁকে নতুন করে সাহস জুগিয়েছে। তাঁর মতে, শিল্পী হিসেবে শুধু অভিনয় করাই নয়, প্রয়োজন হলে সামাজিক প্রশ্ন নিয়েও কথা বলা উচিত।

কলেজের জুনিয়রের সঙ্গে প্রেম থেকে ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই, কিরণের আশ্চর্য জীবন

ভিন্নধারার এক অভিনেত্রী
মালয়ালম সিনেমার গণ্ডি পেরিয়ে ভারতীয় চলচ্চিত্রে নিজস্ব অবস্থান তৈরি করেছেন পার্বতী। ‘টেক অফ’, ‘উয়ারে’, ‘বেঙ্গালোর ডেজ’, ‘ইন্নু নিনতে মোইদিন’–এর মতো ছবিতে তাঁর অভিনয় ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে।

অভিনয়ের পাশাপাশি স্পষ্টভাষী অবস্থানের কারণেও তিনি বারবার আলোচনায় এসেছেন। তবে সেই অবস্থানের জন্য যে তাঁকে ব্যক্তিগত ও পেশাগত মূল্যও দিতে হয়েছে, সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে সেটিই নতুন করে সামনে আনলেন এই অভিনেত্রী।
পার্বতীর কথায়, ‘কিছু সময় মনে হয়েছিল সবাই আমাকে থামিয়ে দিতে চায়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আমি বুঝেছি, ভয়কে জয় করেই এগিয়ে যেতে হয়।’

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস অবলম্বনে

পার্বতী থিরুভোথু। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

Read at source