এযাবৎকালে ধরা পড়া ৫টি দানবীয় মাছ
· Prothom Alo
পৃথিবীর বেশির ভাগ জায়গাজুড়ে রয়েছে বিশাল সাগর আর নদীনালা। আর সেখানে থাকে এমন কিছু বিশাল আকৃতির মাছ, যাদের আকার দেখলে যে কেউ চমকে যাবে। মাঝে মাঝেই জেলেদের জালে কিংবা শিকারিদের বড়শিতে এমন সব বিশালাকার মাছ ধরা পড়ে, যেগুলো ওজনে ও আকারে এক একটা দানবের মতো।
১৯৩৯ সাল থেকে বিশ্বজুড়ে বড়শিতে ধরা পড়া বড় বড় মাছের অফিশিয়াল রেকর্ড রাখছে ইন্টারন্যাশনাল গেম ফিশ অ্যাসোসিয়েশন (আইজিএফএ)। সংস্থাটি মূলত দুইভাবে রেকর্ড বুক তৈরি করে। একটি হলো মাছের দৈর্ঘ্য মেপে সেটিকে আবার জীবিত অবস্থায় পানিতে ছেড়ে দেওয়া হয়। আর অন্যটি হলো ছিপ দিয়ে ধরা ইতিহাসের সবচেয়ে ভারী মাছের জন্য। তবে এই রেকর্ডের জন্য মাছটিকে দাঁড়িপাল্লায় ওজন করতে গিয়ে অনেক সময়ই মেরে ফেলতে হয়।
Visit mchezo.life for more information.
আজকাল অনেক মৎস্যশিকারি রেকর্ড বইয়ে নাম লেখানোর জন্য একটা বিশালাকার মাছকে মেরে ফেলার চেয়ে সেটিকে বাঁচিয়ে রাখতেই বেশি পছন্দ করেন। ২০২২ সালে দক্ষিণ ক্যারোলাইনার উপকূলে ক্যাপ্টেন চিপ মাইকেলভ একটি বিশাল হ্যামারহেড হাঙর ধরেছিলেন। মাছটি ওজনে আগের সব বিশ্ব রেকর্ড খুব সহজেই ভেঙে দিত। কিন্তু হাঙরটিকে বাঁচানোর জন্য চিপ কোনো রেকর্ডের তোয়াক্কা না করে সেটিকে আবার সাগরে ছেড়ে দেন।
গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস ও আন্তর্জাতিক মৎস্যশিকারি সংস্থার রেকর্ড ঘেঁটে আজ আমরা জানব ইতিহাসের সবচেয়ে বড় পাঁচ মাছের কথা।
মিসিসিপি নদী বিপরীত দিকে প্রবাহিত হয়েছিল কেন১. সবচেয়ে বড় স্টারজন
১৯৮৩ সালে ক্যালিফোর্নিয়ায় ধরা পড়ে সবচেয়ে বড় সাদা স্টারজন। ওজনে প্রায় ২১২ কেজি। রেকর্ডটি আজও কেউ ভাঙতে পারেনি। প্রায় ২০ কোটি বছর ধরে পৃথিবীতে টিকে থাকা ডাইনোসর যুগের মাছ এরা। তবে এদের ডিম দিয়ে তৈরি দামি খাবার ক্যাভিয়ার এর জন্য অতিরিক্ত শিকার করায় মাছটি এখন বিলুপ্তির ঝুঁকিতে রয়েছে।
কম পানির মাছ বেশি পানিতে গেলে লাফায় কেন২. ৭১ বছরের পুরোনো দানবীয় অ্যালিগেটর গার
ইতিহাসে নথিভুক্ত সবচেয়ে বড় অ্যালিগেটর গার মাছটির ওজন ছিল ৩২৭ পাউন্ড। ৮ ফুট ৫ ইঞ্চি লম্বা এই দানবীয় মাছ ২০১১ সালে মিসিসিপির লেক চোটার্ডে ধরা পড়ে। জেলে কেনি উইলিয়ামস অন্য মাছ ধরার জন্য জাল পাতলে আচমকা এই বিশাল মাছটি তাতে আটকে যায়। প্রায় আধা ঘণ্টার চেষ্টায় গার মাছটিকে জাল থেকে মুক্ত করে নিজের নৌকায় তোলেন। মাছটি উদ্ধারের সময় থেকেই বেশ দুর্বল ছিল এবং দ্রুতই মারা যায়। পরে উইলিয়ামস মাছটিকে মিসিসিপি মিউজিয়াম অব ন্যাচারাল সায়েন্সে দান করে দেন। বিজ্ঞানীরা পরীক্ষা করে জানান, দানবীয় এই মাছটির বয়স ছিল ৭০ থেকে ৯৫ বছরের মধ্যে।
আসামে কূপের গভীরে পাওয়া গেছে লালচে শরীরের চোখ ছাড়া মাছ৩. দানবীয় স্যামন
কিং স্যামন হলো বিশ্বের স্যামন গোত্রের মধ্যে আকারে সবচেয়ে বড়। স্টারজন মাছের মতো এরাও নদীতে জন্মায়, তারপর বড় হওয়ার জন্য সমুদ্রে চলে যায় এবং ডিম পাড়ার সময়ে আবার নদীতে ফিরে আসে। দুঃখের বিষয় হলো, অতিরিক্ত শিকার ও পরিবেশের কারণে এই দারুণ প্রজাতির মাছের সংখ্যা দিন দিন কমছে এবং এদের বিলুপ্তপ্রায় হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত বড়শিতে ধরা পড়া সবচেয়ে ভারী কিং স্যামনের বিশ্ব রেকর্ডটি হয়েছিল আলাস্কার কেনাই নদীতে। মৎস্যশিকারি লেস অ্যান্ডারসন একটি বিশেষ কৃত্রিম টোপ ব্যবহার করে প্রায় ৪৪ কেজি ওজনের এই বিশাল স্যামন মাছটি ধরে রেকর্ড বইয়ে নাম লেখান।
ইলিনয় নদী বাঁচাতে ধরা হয়েছে ২৫ হাজার টন কার্প মাছ৪. সবচেয়ে বড় ক্যাটফিশ
ইতালির দীর্ঘতম নদী পো–এর ঘোলা পানিতে বাস করে এক বিশাল আকৃতির গোঁফওয়ালা ক্যাটফিশ ২০২৩ সালে এই নদীতেই আলেসান্দ্রো বিয়ানকার্ডি নামের একজন ইতালীয় মৎস্যশিকারি ৯.৪ ফুট লম্বা এক বিশালাকার ওয়েলস ক্যাটফিশ ধরেন। এই বিশাল ক্যাটফিশ আগের সব বিশ্ব রেকর্ড ভেঙে দেয়।
কাদার মধ্যে মাগুর মাছ বেঁচে থাকে কীভাবে৫. লেক ট্রাউট
উত্তর আমেরিকার মৎস্যশিকারিদের কাছে ট্রাউট মাছ ধরা খুবই জনপ্রিয়। কাটথ্রোট, রেইনবো বা ইউরোপীয় ব্রাউন ট্রাউটের মতো এক ডজনের বেশি প্রজাতির ট্রাউট পাওয়া যায়। তবে সব প্রজাতির মধ্যে আকারে সবচেয়ে বড় হয় লেক ট্রাউট। বিশালাকার এই মাছগুলো কানাডা, আলাস্কা ও গ্রেট লেকস এলাকায় প্রচুর পরিমাণে দেখা যায়। আইজিএফএ–এর অফিশিয়াল রেকর্ড অনুযায়ী, বড়শিতে ধরা পড়া ইতিহাসের সবচেয়ে ভারী লেক ট্রাউটের ওজন ছিল প্রায় ৩২.৬ কেজি। দানবীয় মাছটি কানাডার নর্থওয়েস্ট টেরিটরিতে ধরা পড়েছিল।
সূত্র: আউট ডোর লাইফ, ফিশিং বুকারদাড়ি থেকে যেভাবে মাছের নাম রানি হলো