বিশ্বকাপের জন্য তিমির দেয়ালচিত্র নষ্ট করায় ফিফার বিরুদ্ধে মামলা

· Prothom Alo

বিশ্বকাপ প্রচারণার অংশ হিসেবে অনেক কিছুই করে থাকেন আয়োজকেরা। তেমনই এক কাজের কারণে এবার মামলা হয়েছে বৈশ্বিক ফুটবল সংস্থা ফিফার বিরুদ্ধে। যুক্তরাষ্ট্রের ডালাসে একটি তিমির দেয়ালচিত্র নষ্ট হওয়ায় ফিফার বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণ মামলা করেছেন শিল্পী রবার্ট ওয়াইল্যান্ড।

Visit rouesnews.click for more information.

সোমবার ডালাসের ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে করা মামলায় তিনি দাবি করেছেন, বিশ্বকাপের আয়োজক কর্তৃপক্ষ, ভবনের মালিক এবং ভবন পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান তার সম্মতি না নিয়ে, এমনকি তাঁকে কোনো রকম না জানিয়েই তাঁর দেয়ালচিত্রটির ওপর রং করেছেন।

ডালাসের কেন্দ্রস্থলের একটি ভবনে আঁকা ওই চিত্র ছিল একটি সাঁতার কাটতে থাকা তিমির। ভবনের দুই দেয়ালের প্রায় ১ হাজার ৫৮০ বর্গমিটার জায়গাজুড়ে তিমিটি আঁকা হয়েছিল। ১৯৯৯ সালে আঁকা সম্পন্ন হওয়ার পর থেকে দুই যুগের বেশি সময় অবিকৃত ছিল দেয়ালচিত্রটি। তবে ২০২৬ বিশ্বকাপ সামনে রেখে দেয়ালটিতে নতুন করে রং করা হয়েছে।

ওয়াইল্যান্ড আদালতে অভিযোগ করেন, বিশ্বকাপ আয়োজকদের কর্মকাণ্ডে ১৯৯০ সালের ‘ভিজ্যুয়াল আর্টিস্ট রাইটস অ্যাক্টের’ লঙ্ঘন হয়েছে। আইনটি ‘স্বীকৃত মর্যাদাসম্পন্ন’ শিল্পকর্মকে সুরক্ষা দেয়, এমনকি সেই ভৌত শিল্পকর্মটির মালিকানা অন্য কারও হলেও। মূলত জনসাধারণের উদ্দেশে প্রদর্শিত শিল্পকর্ম ধ্বংসের কবল থেকে শিল্পীদের রক্ষা করার জন্য এটি পাস করা হয়েছিল।

ওয়াইল্যান্ড ক্ষতিপূরণ হিসেবে অন্তত আড়াই কোটি  মার্কিন ডলার দাবি করছেন। তাঁর মামলায় বলা হয়েছে, বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা এবং অন্যান্য বিবাদী বিশ্বকাপের প্রচারণার জন্য ‘তাড়াহুড়া করে এবং চিরতরে একটি নাগরিক ঐতিহ্যবাহী নিদর্শন ধ্বংস করেছে।’

সিয়াটলে আঁকা তিমির দেয়ালচিত্রের সামনে রবার্ট ওয়াইল্যান্ড

বার্তা সংস্থা এপির খবরে বলা হয়, ডালাসের স্থানীয় আয়োজক কমিটি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ওয়াইল্যান্ডের দেয়ালচিত্রের জায়গায় নতুন একটি শিল্পকর্মের পরিকল্পনা করা হয়েছে ‘যা এই বর্তমান ঐতিহাসিক মুহূর্তটিকে ধারণ করবে এবং ২০২৬ বিশ্বকাপের চারপাশের উদ্দীপনা, একতা ও বৈশ্বিক চেতনাকে প্রতিফলিত করবে।’

কমিটি আরও জানিয়েছে, ওয়াইল্যান্ডের দেয়ালচিত্রের একটি অংশ সংরক্ষণ করা হবে।
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে ফিফার একজন মুখপাত্র এপিকে জানান, এ ঘটনার সঙ্গে সংস্থাটির ‘কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই’।

যে ভবনের দেয়ালচিত্র মুছে ফেলা হয়েছে, সেটি পরিচালনা করে স্লেট অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট নামের একটি প্রতিষ্ঠান। স্লেট এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, স্থানীয় বিশ্বকাপ আয়োজকেরা মার্চে তাদের কাছে ‘একটি নতুন পাবলিক আর্ট ইনস্টলেশনের’ জন্য এই দেয়ালের জায়গাটি অনুদান হিসেবে চেয়েছিলেন। এ জন্য স্লেট কোনো ধরনের আর্থিক সুবিধা বা ক্ষতিপূরণ পাচ্ছে না জানিয়ে মেইলে লেখা হয়, ‘স্থানীয় গ্রুপগুলোর পক্ষ থেকে আমাদের বলা হয়েছিল যে ওয়াইল্যান্ডকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।’

তবে শিল্পী বিষয়টি জানতেনই না বলে দাবি করেছেন তাঁর অভিযোগে। এখন দেখার বিষয় ডালাসে বিশ্বকাপের এই প্রচারণা ফিফার জন্য বড় কোনো বিপত্তি নিয়ে আসে কি না।

ইনফান্তিনোর ‘আমেরিকান ড্রিম’: ২০৩৮ বিশ্বকাপও কি যুক্তরাষ্ট্রেই হবে

Read at source