৮৮ দিন পর ইরানে ইন্টারনেট সচল, এর মধ্যেই আবার পাল্টাপাল্টি হামলা

· Prothom Alo

টানা ৮৮ দিন পর ইরানে ইন্টারনেট ফিরল। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধের কারণে দেশটিতে ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট করে দেওয়া হয়।

Visit mchezo.co.za for more information.

গত সোমবার ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট পরিষেবা পুনরায় চালুর নির্দেশ দিয়েছেন।

কিয়ান গালভানি নামের এক শিক্ষার্থী তাঁর ‘এক্স’ (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে লিখেছেন, ‘টেলিগ্রামের নোটিফিকেশন দেখে জীবনে কখনো এতটা খুশি হইনি।’

ইরানি সংবাদমাধ্যম জানায়, সোমবার প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট সংযোগ পুনরায় সচল করার আদেশ জারি করেন। যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ বিভাগের প্রধান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তবে বাইরের দুনিয়ার সঙ্গে পুনরায় যোগাযোগ স্বাভাবিক হতে কত সময় লাগবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যে ধস নেমেছে। মূলত অর্থনীতির চাকা সচল করতেই সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

যুক্তরাজ্যের গবেষণাপ্রতিষ্ঠান চ্যাথাম হাউসের সহযোগী ফেলো টমাস জুনো জানান, সরকার পরিস্থিতি বুঝে আবার ইন্টারনেট বন্ধ করে দিতে পারে। অর্থনৈতিক সংকটের জেরে জানুয়ারির মতো নতুন করে বিক্ষোভ শুরু হলে আবারও ব্ল্যাকআউট হতে পারে। যুদ্ধবিরতি চলার মধ্যেই হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন ট্যাংকার লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছে ইরান। এরপর ইরানের বন্দর আব্বাস এলাকায় যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালায়। 

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ জানায়, গত ৮ জানুয়ারি দেশজুড়ে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ শুরু হলে কর্তৃপক্ষ প্রথম ইন্টারনেট বন্ধ করে দেয়। সেই বিক্ষোভে কয়েক হাজার মানুষ প্রাণ হারান। ফেব্রুয়ারিতে কিছু সময়ের জন্য সংযোগ ফিরলেও ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি হামলা শুরু হলে দেশটিতে পুরোপুরি ইন্টারনেট–সেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়।

ইরানে ইসলামি শাসনব্যবস্থাবিরোধী মতাদর্শের রাজনৈতিক জোট ন্যাশনাল কাউন্সিল অব রেজিস্ট্যান্স অব ইরান (এনসিআরআই)-এর যুক্তরাষ্ট্র কার্যালয়ের উপপরিচালক আলিরেজা জাফরজাদে ইনস্টাগ্রামে লিখেছেন, ‘বিশ্বের ইতিহাসে দীর্ঘতম ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট শেষ হলো। ৮৮ দিন পর সবাইকে শুভেচ্ছা।’

ইরানের যোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী সাইয়্যেদ সাত্তার হাশেমি বুধবার বলেন, ‘ইরানের মানুষের বাইরের দুনিয়ার সঙ্গে মুক্ত যোগাযোগ, উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ এবং একটি গতিশীল অর্থনীতি পাওয়ার অধিকার রয়েছে। প্রেসিডেন্ট জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং যোগাযোগব্যবস্থা স্থিতিশীল করার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, সেটি তাঁর বিচক্ষণতার প্রমাণ।’

ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসা-বাণিজ্য

টানা তিন মাস ইন্টারনেট না থাকায় দেশটির ব্যবসা-বাণিজ্যে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। বিশেষ করে যাঁরা ইনস্টাগ্রাম বা টেলিগ্রামের ওপর নির্ভর করে ছোট ব্যবসা চালাতেন, তাঁরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। পুরো নাম না প্রকাশের শর্তে কিউমার্স নামের এক কম্পিউটার প্রোগ্রামার বলেন, ‘দোকান ভাড়ার খরচ বাঁচাতে অনেকে অনলাইনে ব্যবসা করতেন। এই ব্ল্যাকআউটে তাঁরা সব হারিয়েছেন। ঋণের বোঝা আর বড় লোকসানের কারণে তাঁদের অবস্থা এখন শূন্যেরও নিচে। সেখান থেকেই আবার সবকিছু শুরু করতে হবে তাঁদের।’

ইন্টারনেট পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা নেটব্লকসের পরিচালক আল্প টোকার জানান, সংযোগ ফেরানোর প্রক্রিয়া ধীরগতির হতে পারে। অনেক প্রদেশে কয়েক দিন বা সপ্তাহও লেগে যেতে পারে। তিনি আরও জানান, এখনো ভিপিএন ছাড়া অনেক প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করা যাচ্ছে না। টোকার বলেন, ‘মানুষ তাদের প্রিয়জনদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছিল না। তারা যেন বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল।’

ইন্টারনেট চালুর নির্দেশনা এলেও ইরানের সাধারণ নাগরিকেরা এখনো পুরোপুরি আশ্বস্ত হতে পারছেন না। আলিরেজা নাজি নামের ইরানের এক নাগরিক তাঁর ‘এক্স’ প্রোফাইলে লিখেছেন, ‘আমাদের কাছে বিশ্বমানের ইন্টারনেট পাওয়া এখনো অনেক দূরের বিষয়। এই অন্ধকারের মধ্যে বেঁচে থাকাই এখন বড় লড়াই।’

Read at source