নিউইয়র্কে মুক্তধারা-জিএফবি সাহিত্য পুরস্কার পেলেন সাহিত্যিক আবদুন নূর
· Prothom Alo

৩৫তম নিউইয়র্ক আন্তর্জাতিক বাংলা বইমেলায় এ বছর ‘মুক্তধারা-জিএফবি সাহিত্য পুরস্কার’ পেয়েছেন বিশিষ্ট সাহিত্যিক ও গবেষক আবদুন নূর। বাংলা সাহিত্যে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে এই সম্মাননা দেওয়া হয়। রোববার রাতে জ্যামাইকা পারফর্মিং আর্টস সেন্টারের মূল মঞ্চে আড়ম্বরপূর্ণ এক অনুষ্ঠানে তাঁর হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।
Visit newsbetsport.bond for more information.
পুরস্কার হিসেবে আবদুন নূরকে সম্মাননা ক্রেস্ট ও তিন হাজার মার্কিন ডলারের চেক দেওয়া হয়েছে। তাঁর হাতে এই পুরস্কার তুলে দেন বইমেলার আহ্বায়ক অর্থনীতিবিদ নজরুল ইসলাম, প্রখ্যাত গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব রোকেয়া হায়দার এবং জিএফবি গ্রুপের চেয়ারম্যান গোলাম ফারুক ভূঁইয়া।
পুরস্কার পেয়ে আবদুন নূর প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমার সবচেয়ে আপনজনেরা আমাকে এই পুরস্কার দিয়েছে—এটাই আমার সবচেয়ে বড় পাওয়া।’ তিনি আরও বলেন, ‘৩৫ বছর আগে যখন একটি মাত্র টেবিল নিয়ে এই বইমেলার যাত্রা শুরু হয়েছিল, তখন থেকেই আমি মুক্তধারার সঙ্গে যুক্ত। এই পুরস্কার আমাকে ব্যাপকভাবে উৎসাহিত করেছে।’
উত্তর আমেরিকায় বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির অন্যতম বৃহৎ আয়োজন ‘৩৫তম নিউইয়র্ক আন্তর্জাতিক বাংলা বইমেলা ২০২৬’ শুরু হয় গত শুক্রবার। নিউইয়র্কের জ্যামাইকা পারফর্মিং আর্টস সেন্টারে চার দিনব্যাপী এ মেলার এবারের প্রতিপাদ্য ‘যত বই তত প্রাণ’।
পুরস্কারের সম্পূর্ণ অর্থায়ন করছে নিউ জার্সিভিত্তিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান জিএফবি গ্রুপ। প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান গোলাম ফারুক ভূঁইয়া বলেন, ‘আমি সব সময় চেয়েছি, এই পুরস্কার এমন এক মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে পৌঁছাক, যাতে বিশ্বের বাঙালি সাহিত্যিকেরা এর জন্য আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করেন।’ তিনি জানান, এবারই প্রথম পাঁচ সদস্যের একটি গোপন জুরিবোর্ডের মাধ্যমে সাহিত্যিক নির্বাচন করা হয়েছে। জুরিদের প্রাথমিক তালিকায় আবদুন নূর ছাড়াও ছিলেন কবি মহাদেব সাহা এবং সৈয়দ আকরাম হোসেন।
২০১৬ সাল থেকে প্রবর্তিত এই পুরস্কার এর আগে নির্মলেন্দু গুণ, আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ, সেলিনা হোসেন, সমরেশ মজুমদার ও শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের মতো বরেণ্য সাহিত্যিকেরা পেয়েছেন।
৮৭ বছর বয়সী আবদুন নূর দীর্ঘ সময় বিশ্বব্যাংকের বিশেষজ্ঞ হিসেবে কাজ করেছেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে ‘প্যাগাসাস’, ‘শূন্যবৃত্ত’, ‘বিচলিত সময়’ ও ‘ঢাকা শহর ঘিরে’। তাঁর লেখায় প্রবাসীদের আত্মপরিচয়ের সংগ্রাম ও মানবাধিকারের বিষয়গুলো জোরালোভাবে উঠে এসেছে। গত বছর তিনি মুক্তধারা ফাউন্ডেশনের আজীবন সম্মাননা পুরস্কারও পেয়েছিলেন।