ভারতীয় পণ্য পাচারের ভিডিও করতে গিয়ে হামলার শিকার দুই সাংবাদিক

· Prothom Alo

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ার শশীদল রেলস্টেশন থেকে ট্রেনে করে ভারতীয় চোরাই পণ্য ও মাদক পাচারের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এমন ঘটনার ভিডিও ধারণ করতে গিয়ে স্থানীয় দুই সাংবাদিক হামলার শিকার হয়েছেন। সাংবাদিকদের মারধর করে মুঠোফোন ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে শশীদল রেলস্টেশনে এ ঘটনা ঘটে।

Visit fish-roadgame.online for more information.

হামলায় আহত সাংবাদিকেরা হলেন, দৈনিক কালের কণ্ঠের বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা প্রতিনিধি আক্কাস আল মাহমুদ (হৃদয়) এবং কুমিল্লা প্রতিদিন পত্রিকার প্রধান সম্পাদক মো. শরিফুল ইসলাম (সুমন)। গতকাল রাতেই এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন দুই সাংবাদিক। তবে আজ বুধবার বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত হামলাকারীদের কাউকে আটক করতে পারেনি পুলিশ।

থানায় দেওয়া অভিযোগ ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রামগামী ‘চট্টলা এক্সপ্রেস’ ট্রেনটি শশীদল স্টেশনে এসে দাঁড়ালে চোরাকারবারিরা তাতে ভারতীয় অবৈধ মালামাল ও মাদক তুলতে শুরু করে। এ দৃশ্য মুঠোফোনে ধারণ করার সময় কবির হোসেন, পারুল আক্তার, রাসেলসহ অজ্ঞাতনামা ১২ থেকে ১৪ জনের একটি সংঘবদ্ধ চক্র সাংবাদিকদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। পরে সাংবাদিকেরা মোটরসাইকেলে করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করার চেষ্টা করলে স্টেশনের বাইরে তাঁদের গতি রোধ করে আবারও এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। সংবাদ প্রকাশ করলে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে হামলাকারীরা সাংবাদিকদের মুঠোফোন ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নেয়। আহত দুই সাংবাদিক স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, শশীদল বিজিবি (বিওপি) ক্যাম্পের মাত্র ১০০ গজ দূরে অবস্থিত রেলস্টেশনটি দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ভারতীয় চোরাই পণ্য ও মাদক পাচার হয়ে আসছে। কয়েকটি সংঘবদ্ধ চক্র প্রশাসন ও পুলিশের অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজশে সীমান্ত এলাকা থেকে অবৈধ পণ্য এনে ট্রেনযোগে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাচার করে। আরও আশ্চর্যের বিষয় হলো, স্টেশনে ট্রেন প্রবেশের সময় বিদ্যুৎ চলে যায় এবং ট্রেন ছেড়ে যাওয়ার পর আবার বিদ্যুৎ আসে। এ অন্ধকারের সুযোগ নিয়েই চোরাকারবারিরা মালামাল ট্রেনে তোলে।

সম্প্রতি স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. জসীম উদ্দিন মাদক ও চোরাচালানের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ ঘোষণা করে নিজে সীমান্তে অভিযান চালালেও এ পাচার থামানো যাচ্ছে না। মাঝেমধ্যে প্রশাসনের অভিযানে দুয়েকজন ধরা পড়লেও নেপথ্যে থাকা প্রভাবশালী ‘রাঘব বোয়ালেরা’ সব সময়ই ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছেন। আসন্ন কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে এই চোরাকারবারিরা আরও সক্রিয় হয়ে উঠেছে। এখন বেশি পাচার হচ্ছে।

ভুক্তভোগী সাংবাদিক আক্কাস আল মাহমুদ বলেন, ‘শশীদল রেলস্টেশনে দীর্ঘদিন ধরে ট্রেনের মাধ্যমে ভারতীয় অবৈধ পণ্য ও মাদক পাচারের অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা তথ্য সংগ্রহে যাই। সেখানে গিয়ে দেখতে পাই যে ট্রেনে অবৈধ পণ্য তোলার কারণে সাধারণ যাত্রীরা ওঠানামা করতে পারছিলেন না। আমরা এ দৃশ্যের ভিডিও ধারণ করতে গেলে চোরাকারবারিরা আমাদের ওপর হামলা চালায়। ঘটনার পর বিষয়টি শশীদল বিওপির কমান্ডারকে জানাতে গিয়ে দেখি, তিনি ইউনিয়ন পরিষদের কাছে হামলাকারীদের সঙ্গেই আড্ডা দিচ্ছেন। তখন তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।’

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে শশীদল রেলস্টেশনের স্টেশন মাস্টার আবু তাহের সরকার বলেন, ‘স্টেশনে চোরাকারবারিদের কারণে আমাদের কোনো নিরাপত্তা নেই। চোরাই পণ্যের কারণে যাত্রীদের ওঠা-নামায় প্রচণ্ড অসুবিধা হয়।’ অবৈধ পণ্য পাচারের জন্য রেলওয়ে পুলিশকে (জিআরপি) দায়ী করে তিনি সাংবাদিকদের ওপর হামলার এই ন্যক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান এবং জড়িত ব্যক্তিদের বিচার দাবি করেন।

ব্রাহ্মণপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফারুক হোসেন বলেন, সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় থানায় অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সত্যতা মিলেছে। পুলিশ ইতিমধ্যেই একাধিক অভিযান পরিচালনা করেছে, তবে হামলাকারীরা এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে। এ বিষয়ে থানায় মামলা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে এবং জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত আছে।

Read at source