জিলকদ মাসে নবীজির আমল

· Prothom Alo

আল্লাহ–তাআলা পবিত্র কোরআনে ঘোষণা করেছেন যে, আকাশ ও পৃথিবী সৃষ্টির সূচনা থেকেই বছরের মাস সংখ্যা বারটি নির্ধারিত, যার মধ্যে চারটি মাস বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ। এই চারটি মাস হলো—জিলকদ, জিলহজ, মহররম ও রজব।

এই মাসগুলোকে ‘আশহুরে হুরুম’ বলা হয়, অর্থাৎ সম্মানিত ও পবিত্র মাস। এসব মাসে পাপ থেকে বেঁচে থাকা এবং নেক আমল বৃদ্ধি করার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। (সুরা তাওবা, আয়াত : ৩৬)

Visit newsbetting.cv for more information.

এই মাসগুলোর বৈশিষ্ট্য হলো—এগুলোতে অন্যায়ের পাপ আরও গুরুতর হয়ে যায় এবং নেক আমলের সওয়াবও বৃদ্ধি পায়। তাই আল্লাহ–তাআলা বিশেষভাবে সতর্ক করেছেন, “তোমরা এসব মাসে নিজেদের ওপর জুলুম করো না।”

এখানে ‘জুলুম’ বলতে বোঝানো হয়েছে—আল্লাহর অবাধ্যতা করা এবং তাঁর নির্দেশ অমান্য করা। যদিও পাপ সব সময়ই নিষিদ্ধ, তবে এই সম্মানিত মাসগুলোতে তা আরও ভয়াবহ রূপ ধারণ করে।

জিলকদ মাস এই চারটি সম্মানিত মাসের প্রথমটি। এর ঐতিহাসিক ও আধ্যাত্মিক গুরুত্বও অনেক গভীর।

রাসুলের জীবনে জিলকদ মাসের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। হাদিস থেকে জানা যায়, তিনি যে ওমহরাহগুলো আদায় করেছেন, সেগুলোর অধিকাংশই এই মাসে সম্পন্ন হয়েছে।
কেন ৪ মাসকে ‘হারাম’ মাস বলে

কোরআনের বর্ণনা অনুযায়ী, হজরত মুসা (আ.) আল্লাহর নির্দেশে তুর পাহাড়ে চল্লিশ দিন অবস্থান করেছিলেন, যার প্রথম ত্রিশ দিন ছিল জিলকদ মাস এবং পরবর্তী দশ দিন ছিল জিলহজ মাসের প্রথম দশক।

এই সময়েই তিনি আল্লাহর সঙ্গে বিশেষভাবে কথা বলার সুযোগ লাভ করেন এবং আসমানী নির্দেশনা গ্রহণ করেন। ফলে জিলকদ মাসের সঙ্গে একটি ঐশী ঘটনার সম্পর্ক রয়েছে, যা এর মর্যাদাকে আরও বাড়িয়ে দেয়। (দেখুন, সুরা আরাফ, আয়াত : ১৪২)

এ ছাড়া রাসুলের জীবনে জিলকদ মাসের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। হাদিস থেকে জানা যায়, তিনি যে ওমহরাহগুলো আদায় করেছেন, সেগুলোর অধিকাংশই এই মাসে সম্পন্ন হয়েছে। এতে বোঝা যায়, এই মাস ইবাদতের জন্য অত্যন্ত উপযোগী এবং বরকতময় সময়।

জিলকদ মাসের অন্যতম শিক্ষা হলো, ইবাদতের প্রতি মনোযোগ বৃদ্ধি করা এবং পাপ থেকে দূরে থাকা। ফরজ ইবাদত যথাযথভাবে আদায় করার পাশাপাশি নফল ইবাদতেও যত্নবান হওয়া উচিত।

ইসরা ও মিরাজ: একটি অলৌকিক ভ্রমণের প্রেক্ষাপট
সলামে সময়েরও একটি বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। কিছু সময় এমন আছে, যেগুলোকে আল্লাহ–তাআলা অন্য সময়ের তুলনায় বেশি মর্যাদা দিয়েছেন।

বিশেষ করে নফল রোজা রাখা একটি উত্তম আমল হিসেবে বিবেচিত। হাদিসের আলোকে বোঝা যায়, আশহুরে হুরুমে কিছু দিন রোজা রাখা মোস্তাহাব। তবে অতিরিক্ত কষ্ট দিয়ে নিজেকে দুর্বল করে ফেলা ইসলামের শিক্ষা নয়; বরং মধ্যপন্থা অবলম্বন করাই উত্তম।

রাসুল (সা.) এক সাহাবিকে শিক্ষা দিয়েছিলেন যে সারা বছর নিরবচ্ছিন্ন রোজা রাখার পরিবর্তে নির্দিষ্ট কিছু দিনে রোজা রাখা উত্তম। বিশেষ করে সম্মানিত মাসগুলোতে মাঝে মাঝে রোজা রাখা এবং বিরতি দেওয়া—এটাই সুন্নাহসম্মত পন্থা। (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ২৪২৮)

এই আলোচনার মাধ্যমে আমরা বুঝতে পারি, ইসলামে সময়েরও একটি বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। কিছু সময় এমন আছে, যেগুলোকে আল্লাহ–তাআলা অন্য সময়ের তুলনায় বেশি মর্যাদা দিয়েছেন, যাতে বান্দারা সেই সময়গুলোকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের আমলকে সমৃদ্ধ করতে পারে।

জিলকদ মাসসহ আশহুরে হুরুম আমাদের জন্য আত্মশুদ্ধির এক মহামূল্যবান সুযোগ। এই সময়গুলোতে আমরা যদি পাপ থেকে বিরত থাকতে পারি, ইবাদতে মনোযোগী হই এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করি, তাহলে আমাদের জীবন হবে আলোকিত ও সফল।

আল্লাহ–তাআলা আমাদের সবাইকে এই সম্মানিত মাসগুলোর যথাযথ মর্যাদা রক্ষা করার এবং বেশি বেশি নেক আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

ঘড়ির কাঁটার বাইরে মুমিনের সময়ের হিসাব

Read at source