এক মাস ১৬ দিনের সন্তানসহ কারাগারে যুব মহিলা লীগের নেত্রী
· Prothom Alo

মঙ্গলবার বেলা ৩টা ১০ মিনিট। ঢাকা চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের চতুর্থ তলায় চার নম্বর আদালতের সামনে বেঞ্চে বসে ৪৬ দিনের সন্তানকে দুধ পান করাচ্ছেন এক নারী। কাপড় দিয়ে আড়াল করে রেখেছেন আরও দুজন।
Visit mchezo.life for more information.
বেলা ৩টা ১৫ মিনিটের দিকে এক পুলিশ কর্মকর্তা এসে আসামিকে হাজতখানায় নিতে চাইলে কেঁদে ওঠেন তিনি। এ সময় আইনজীবী ও নারীর সঙ্গে থাকা ব্যক্তিরা পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে তর্কে জড়ান। পাঁচ মিনিট পর তাঁকে হাঁটিয়ে নিয়ে সিএমএম আদালতের চারতলা থেকে নামিয়ে হাজতখানায় নেওয়া হয়। এ সময় কাঁদতে থাকেন তিনি।
জানা গেছে, ওই নারীর নাম মোসা. শিল্পী বেগম (৩৭)। তিনি ২৬ নম্বর ওয়ার্ড যুব মহিলা লীগের একজন নেত্রী। রাজধানীর তেজগাঁও থানায় বিস্ফোরক আইনের একটি মামলায় এই নারীকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।
ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন মুহাম্মদ জুনাইদের আদালত এ আদেশ দেন। এর আগে আসামিকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা তেজগাঁও থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শেখ নজরুল ইসলাম।
এ বিষয়ে আসামিপক্ষের আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন রাখী বলেন, ‘এই আসামির কোলে ১ মাস ১৬ দিন বয়সী বাচ্চা। সিজারের (অস্ত্রোপচারের) মাধ্যমে বাচ্চাটি হয়েছে। তার নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও ফলোআপের প্রয়োজন হয়। কোলের শিশুটির দেখভালের বিষয় রয়েছে। এটি মা ও শিশুর জন্য অনিশ্চয়তা তৈরি করে।’
আইনজীবী আরও বলেন, ‘আমরা আসামির জন্য যেকোনো শর্তে জামিন চেয়ে আদালতে আবেদন করি। আমরা মানবিক দিক বিবেচনা করে জামিন চেয়েছিলাম, কিন্তু বিজ্ঞ আদালত তা মঞ্জুর করেননি। এটি আমাদের ব্যথিত করেছে। আমরা মনে করি, এটি মা ও শিশুর মানবাধিকার লঙ্ঘন।’
কারাগারে পাঠানোর আবেদন সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে গুলিবিদ্ধ হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র মো. তাহমিদ মুবিন রাতুল (২১)। বিষয়টি জানাজানি হলে যুব মহিলা লীগের নেত্রী শিল্পী বেগমের নির্দেশে ২৩ জুলাই অজ্ঞাত ১২০-১৩০ জন আসামি দেশীয় ধারালো অস্ত্র, পিস্তল ও বোমা নিয়ে তাঁর বাসায় হামলা চালায় এবং ঘরের আসবাব ও ইলেকট্রনিক জিনিসপত্র ভাঙচুর করে।
আবেদনে আরও বলা হয়, এ ঘটনায় পাঁচ লাখ টাকার ক্ষতিসাধন হয় এবং বাসার বিভিন্ন মালামাল লুটপাট ও চুরি করে নিয়ে যায়, যার মূল্য তিন লাখ টাকা। তারা বাসার সামনে রাস্তার ওপর বোমার বিস্ফোরণও ঘটায় এবং মারধরও করে।
আবেদনে বলা হয়, তদন্তে এই আসামির ঘটনায় জড়িত থাকার বিষয়ে যথেষ্ট সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ২০ এপ্রিল নিজ বাসা থেকে ওই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমন করতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন বলে তদন্তে জানা গেছে। মামলাটির তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত আসামিকে জেলহাজতে আটক রাখা বিশেষ প্রয়োজন।