ওয়াশিংটনে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ সম্মেলনে আস্থা গঠনের তাগিদ
· Prothom Alo
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে দুই দিনব্যাপী ইন্টারন্যাশনাল ইনভেস্টমেন্ট অ্যান্ড ডিজিটাল ফাইন্যান্স সম্মেলন শেষ হয়েছে। ১৭ ও ১৮ এপ্রিল অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে বৈশ্বিক বিনিয়োগ, ডিজিটাল অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অলাভজনক প্রতিষ্ঠান ইন সার্চ অব রুট ফাউন্ডেশনের (আইএসওআরএফ) আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে অংশ নেন নীতিনির্ধারক, অর্থনীতিবিদ, উদ্যোক্তা ও প্রবাসী প্রতিনিধিরা। এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে আইএসওআরএফ।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দ্রুত পরিবর্তনশীল ডিজিটাল অর্থনীতি ও বিনিয়োগ প্রবণতার প্রেক্ষাপটে আস্থা, স্বচ্ছতা ও সহযোগিতার ভিত্তিতে বৈশ্বিক বিনিয়োগব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করা এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য।
Visit moryak.biz for more information.
উদ্বোধনী অধিবেশনে আইএসওআরএফের প্রেসিডেন্ট রায়হানুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ডিজিটাল ফাইন্যান্স এখন আর ভবিষ্যতের বিষয় নয়, বরং বর্তমান বাস্তবতা। তিনি একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সংযুক্ত বৈশ্বিক আর্থিকব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন। সেশনটি পরিচালনা করেন গ্রেটার নিউইয়র্ক চেম্বার অব কমার্সের সিইও ও প্রেসিডেন্ট মার্ক জ্যাফে। তিনি বলেন, সরকার ও বেসরকারি খাতের মধ্যে আস্থা ও সমন্বয় ছাড়া টেকসই বিনিয়োগ সম্ভব নয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়া ডিপার্টমেন্ট অব ইনস্যুরেন্স, সিকিউরিটিজ অ্যান্ড ব্যাংকিংয়ের কমিশনার কারিমা এম উডস, ভার্জিনিয়া ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট পার্টনারশিপের পরিচালক সারা ব্রুকস, ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যাকসন স্কুল অব গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্সের সিনিয়র ফেলো ও সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত হ্যারি কে থমাস জুনিয়রসহ আন্তর্জাতিক নীতি ও বিনিয়োগ খাতের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
সম্মেলনের প্রথম দিনের অন্যতম আকর্ষণ ছিল পাবলিক-প্রাইভেট সংলাপ। এতে সাংবাদিক ও তথ্যপ্রযুক্তি পরামর্শক অভীক সানওয়ার রহমান বলেন, নীতিগত স্বচ্ছতা ও আস্থা ছাড়া বিনিয়োগ টেকসই হতে পারে না। সেশন চেয়ার আবদুন নূর বলেন, কার্যকর পাবলিক-প্রাইভেট সংলাপই অর্থনৈতিক অগ্রগতির মূল চালিকাশক্তি।
আলোচনায় বিশ্বব্যাংকের রাইহান এলাহী দক্ষিণ এশিয়ায় বিনিয়োগ বৃদ্ধির জন্য নীতিগত স্থিতিশীলতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। স্টেট ইউনিভার্সিটি অব নিউইয়র্কের অর্থনীতির অধ্যাপক বিরূপাক্ষ পাল ডিজিটাল অর্থনীতির সম্ভাবনা তুলে ধরেন। বিকাশের প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও কামাল কাদির ডিজিটাল পেমেন্টের মাধ্যমে আর্থিক অন্তর্ভুক্তির অগ্রগতির কথা উল্লেখ করেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালক হারুন আর রশিদ সময়োপযোগী নিয়ন্ত্রক কাঠামোর প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।
সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে রেগুলেটরি ও তদারকিবিষয়ক সেশন অনুষ্ঠিত হয়। এ ছাড়া ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা অর্থায়ন, ব্যবসা সম্প্রসারণ এবং দক্ষিণ এশিয়া-যুক্তরাষ্ট্র বিনিয়োগ সহযোগিতা নিয়েও পৃথক সেশন অনুষ্ঠিত হয় এদিন। সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্র, বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, নেপালসহ বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।