২৩ অস্ত্রোপচার, ৪ বছর শয্যাশায়ী—হার মানেননি বিক্রম

· Prothom Alo

তামিল অভিনেতা চিয়ান বিক্রমের জীবনের শুরুর গল্পটা যেন সিনেমার চেয়েও নাটকীয়। একাধিক ভয়াবহ দুর্ঘটনার মুখোমুখি হয়েছিলেন তিনি। এমনকি একসময় চিকিৎসকেরা জানিয়ে দিয়েছিলেন, তিনি আর কোনো দিন হাঁটতে পারবেন না। তবে সেই কঠিন ভবিষ্যদ্বাণীকে ভুল প্রমাণ করে দীর্ঘ লড়াই পেরিয়ে আজকের এই অবস্থানে পৌঁছেছেন তিনি। ৬০তম জন্মদিনে ফিরে দেখা যাক সেই সংগ্রামের গল্প।

চিয়ান বিক্রম

কলেজে পড়ার সময় চেন্নাই থেকে একটি নাটক করে ফেরার পথে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হন বিক্রম। তাঁর পায়ে আঘাত এতটাই গুরুতর ছিল যে চিকিৎসকেরা প্রথমে পা কেটে ফেলার পরামর্শ দেন। পরে অন্য একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁর পা বাঁচাতে সক্ষম হন। তবে তখন জানিয়ে দেওয়া হয়, তিনি আর কোনো দিন হাঁটতে পারবেন না। দুর্ঘটনার পর টানা তিন বছর তাঁকে বিছানায় থাকতে হয়। ২৩টি অস্ত্রোপচার, সংক্রমণ, এক বছর ক্রাচে ভর দিয়ে চলাফেরা—সব মিলিয়ে চার বছর পর্যন্ত তিনি হাঁটতেই পারেননি।

Visit asg-reflektory.pl for more information.

এর আগেও শৈশবে একটি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছিলেন বিক্রম। সেই সময়ও প্রায় চার বছর তিনি হাঁটতে পারেননি এবং ২০টির বেশি অস্ত্রোপচার করাতে হয়েছিল। ফলে জীবনের শুরু থেকেই শারীরিক কষ্ট আর চিকিৎসার সঙ্গে তাঁর লড়াই চলেছে দীর্ঘদিন।

তবে এত বাধার মধ্যেও নিজের লক্ষ্য থেকে সরে যাননি বিক্রম। ছোটবেলা থেকেই অভিনেতা হওয়ার স্বপ্ন ছিল তাঁর। চিকিৎসকেরা যখন বলেছিলেন, তিনি আর হাঁটতে পারবেন না, তখনই তিনি ঠিক করেন—তিনি শুধু হাঁটবেনই না, একদিন দৌড়াবেন এবং অভিনয় করবেন। ধীরে ধীরে সাঁতার, নিয়মিত ব্যায়াম এবং অদম্য মানসিক শক্তির মাধ্যমে তিনি আবার দাঁড়াতে শেখেন। একসময় ক্রাচ ছেড়ে লাঠিতে ভর দিয়ে হাঁটা শুরু করেন, এরপর ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জীবনে ফেরেন।

চিয়ান বিক্রম

অভিনয় ক্যারিয়ারের শুরুর পথও ছিল কঠিন। টানা প্রায় ১০ বছর তাঁর কোনো সিনেমাই সাফল্য পায়নি। এমন সময় গেছে, হলে তাঁর সিনেমা দেখতে মাত্র ২০-২৫ জন দর্শক উপস্থিত থাকতেন। তবে ১৯৯৯ সালে মুক্তি পাওয়া ‘সেথু’ সিনেমা তাঁর জীবনে বড় পরিবর্তন আনে এবং সেখান থেকেই তিনি দর্শকের নজরে আসেন।
ব্যক্তিগত জীবনেও এই সংগ্রামের প্রতিফলন দেখা যায়। বিক্রম জানান, প্রথমবার যখন তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে দেখা হয়, তখন তিনি ক্রাচে ভর দিয়ে চলাচল করতেন। কিন্তু সেই অবস্থাতেই তিনি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলেছিলেন, একদিন তিনি সুপারস্টার হবেন। তাঁর এই কথায় শুরুতে স্ত্রী মনে করেছিলেন, তিনি হয়তো অবাস্তব কল্পনা করছেন।
বিক্রম আরও জানান, দুর্ঘটনার কয়েক বছর পর এক চিকিৎসক তাঁকে হাঁটতে দেখে বিস্মিত হয়ে বলেছিলেন, ‘তুমি হাঁটছো? তোমার তো হাঁটার কথা নয়!’ এই ঘটনাগুলোই তাঁকে আজও অনুপ্রাণিত করে।

সিনেমার দৃশ্যে চিয়ান বিক্রম

এই অভিনেতা স্বীকার করেন, এখনো তিনি পুরোপুরি সুস্থ নন, হাঁটু পুরোপুরি বাঁকাতে পারেন না, নাচ বা বসতেও সমস্যা হয়। তবু থেমে থাকেননি তিনি। প্রতিটি চরিত্র, প্রতিটি কাজকে তিনি নতুন করে পাওয়া একেকটি আশীর্বাদ হিসেবে দেখেন।


দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস ও নিউজ১৮ অবলম্বনে

Read at source