বৈশাখে এবার যেমন চুড়ির ধারা থাকবে

· Prothom Alo

জেন-জি আর মিলেনিয়াল—দুই প্রজন্মের ভাবনা, রুচি আর স্টাইল আলাদা। সাজের ক্ষেত্রে জেন-জি দ্রুত বদলে যাওয়া ট্রেন্ডে স্বচ্ছন্দ। আর মিলেনিয়ালের সাজে থাকে কিছুটা স্থিরতার ছাপ। তবে কাচের চুড়িতে এসে তারা যেন এ বছর অভিন্ন। বৈশাখী সাজে কাচের চুড়ি এবার দুই প্রজন্মেরই ফ্যাশন স্টেটমেন্ট। পরিচিত রেশমি চুড়ির সঙ্গে এবারের ট্রেন্ড ‘কাশ্মীরি চুড়ি’।

Visit grenadier.co.za for more information.

বৈশাখী সাজে দেখা যাবে কাশ্মীরি ঘুঙরু চুড়ি। মডেল: তাজিন, পোশাক: রঙ বাংলাদেশ, সাজ: পারসোনা

‘কাচের চুড়ি কিনতে উৎসব লাগে!’

কয়েক দিন পরই পয়লা বৈশাখ। বর্ষবরণের সাজে শাড়ি তো আছেই। তবে এই সাজের এক গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ কাচের চুড়ি। রাজধানীর গাউছিয়া মার্কেটে চুড়ির বাজারে দেখা গেল ক্রেতাদের ভিড়। বাহারি রং আর নকশার চুড়ি কিনছেন ক্রেতারা। সেখানেই স্বর্ণিল আর সুমাইয়া দুই বোনকে পাওয়া গেল। দুজনেই এসেছেন কাচের চুড়ি কিনতে। স্বর্ণিল কিনেছেন ল্যাভেন্ডার আর সোনালি রঙের চুড়ি। রংধনু আর গোলাপি কাচের চুড়ি কিনেছেন সুমাইয়া।

স্বর্ণিল জানালেন, নীলক্ষেতে বই কিনতে এসে চুড়ির বাজারে ঢুকে পড়েছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রেন্ডে থাকা কাশ্মীরি চুড়ির খোঁজ করছেন। পয়লা বৈশাখ মাথায় রেখে কাচের চুড়ি কেনা হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নে হাতভর্তি রেশমি চুড়ি দেখিয়ে সুমাইয়ার উত্তর, ‘কাচের চুড়ি কিনতে আবার উৎসব লাগে!’ জানালেন, এবারের বর্ষবরণে দুই বোনের হাতেই শোভা পাবে কাচের চুড়ি।

সন্তান বাবার কাছ থেকে যে ৬টি গুণ বা বৈশিষ্ট্য পায়দাদিমা, রেইনড্রপ, সাইকেল, পাতাবাহার, স্ট্রবেরি, র‍্যাম্বো, টিকটক, ভাবিজি—এমন সব বাহারি নামের চুড়ি মিলবে বাজারে

হরেক রকম কাচের চুড়ি

কাচের চুড়ির আছে নানা রকম নাম। একেবারে সাদামাটা একরঙা যে কাচের চুড়ি দেখা যায় সেটি রেশমি চুড়ি। এটি সবচেয়ে জনপ্রিয়। রেশমি চুড়ি দুই ধরনের—মসৃণ আর খাঁজকাটা। সাদা, লাল, হলুদ, কালো, নীলসহ নানা রঙে এই চুড়ি পাওয়া যায়।

তামান্না, পরদেশি, কেশ, দাদিমা, রেইনড্রপ, সাইকেল, পাতাবাহার, স্ট্রবেরি, র‍্যাম্বো, টিকটক, ভাবিজি—এমন সব বাহারি নামের চুড়ি মিলবে বাজারে। তামান্নায় কাচের ওপর চুমকি বসানো থাকে। কাচের একেবারে চিকন চুড়িগুলোর নাম কেশ। এটি দুই ধরনের হয়। একরঙা এবং ‘মাল্টি কেশ’।

দাদিমায় থাকে পাথরের কাজ। এতে কাচ কেটে নকশা করা হয়। রেইনড্রপ চুড়িতে কাচের ওপর বৃষ্টির ফোঁটার মতো ছোট ছোট বল বসানো থাকে। এসব চুড়ির অধিকাংশ ভারত থেকে আসে। বাংলাদেশি কাচের চুড়ির মধ্যে আছে তামান্না, ভেলভেট এবং আফজাল। বিক্রেতারা জানান, পলিশ ভালো হওয়ায় ভারতীয় চুড়িই ক্রেতারা বেশি কেনেন। দেশি চুড়ি কিছুটা কম দামে পাওয়া যায়।

রং, নকশা এবং তৈরির দেশভেদে কাচের চুড়ির দামের পার্থক্য হয়

কাশ্মীরি চুড়ির ধারা

কাশ্মীরি চুড়ির চলতি ধারাটা গত ঈদের আগে থেকে শুরু হয়েছে। কাশ্মীরি চুড়ি আলাদা কিছু নয়। প্রচলিত কাচের চুড়ির সঙ্গে ঘুঙুর লাগানো ধাতব চুড়ি মিলিয়ে পরা হয়। ঘুঙুর লাগানো এই ধাতব চুড়িকে বলে ‘কাশ্মীরি ঝুমকা’। কাচের চুড়ি এবং কাশ্মীরি ঝুমকা একসঙ্গে পরার চলতি ধারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কাশ্মীরি চুড়ি নামে পরিচিতি পেয়েছে।

তামান্না, দাদিমা এবং রেইনড্রপ চুড়ির সঙ্গে এই ধাতব চুড়িগুলো বেশি পরা হচ্ছে। ঘুঙুর লাগানো এই ধাতব চুড়িগুলো সোনালি, রুপালি এবং কালো রঙের হয়ে থাকে। এক ডজন কাচের চুড়ির সঙ্গে চারটি কাশ্মীরি ঝুমকা পরা হয়। চারটি কাশ্মীরি ঝুমকার দাম ২০০ টাকা। চারটি কাশ্মীরি ঝুমকাসহ এক ডজন কাচের চুড়ি ৫০০ টাকা।

রাজধানীর চকবাজারের পাইকারি বিক্রেতা মো. সানি। প্রায় ৩৫ বছরের চুড়ির ব্যবসা তাঁর। সানি বলছিলেন, ‘আমি স্কুল থেকে চুড়ির ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। কাচের চুড়ি বলতে মসৃণ রেশমি চুড়িই বোঝায়। চল্লিশ বছর ধরে দেখে আসতেছি। কাশ্মীরি চুড়ি বলতে যেটা এসেছে, এটা আসলে একটা হাইপ। সপ্তাহখানেক পর হয়তো আবার থাকবে না।’

সিলিকা জেলের প্যাকেটগুলো কেন ফেলে দেওয়া উচিত নয়গাউছিয়া মার্কেটে পাওয়া যাবে প্রায় সব ধরনের কাচের চুড়ি

দাম

রং, নকশা এবং তৈরির দেশভেদে কাচের চুড়ির দামের পার্থক্য হয়। চকবাজার কাচের চুড়ির পাইকারি বাজার। এখানে বিক্রেতারা গ্রুস হিসেবে চুড়ি বিক্রি করেন। এক গ্রুসে ২৪ মুঠ চুড়ি থাকে। প্রতি মুঠে চুড়ি থাকে ছয়টি। এক গ্রুস চুড়ির দাম পড়ে ৪৫০ থেকে ২ হাজার ২০০ টাকা। ফুটপাতগুলোতেও কাচের চুড়ি বিক্রি হয়।

গাউছিয়া মার্কেটে পাওয়া যাবে প্রায় সব ধরনের কাচের চুড়ি। খুচরা পর্যায়ে চুড়ি বিক্রি হয় ডজন হিসেবে। এক ডজন রেশমি চুড়ির দাম ৬০ টাকা। খাঁজকাটা রেশমি চুড়ি প্রতি ডজন ৮০ টাকা। রেইনড্রপ এক ডজন ২৫০ টাকা। ৩০০ থেকে ৪০০ টাকায় পাওয়া যাবে দাদিমা, পাতাবাহার।

বয়স ৬০ পেরিয়ে কারা সুখী হয়, জানেন?

Read at source