আইপিএলে ব্যাটিং: ১৮ বছরে পাল্টেছে কতটা

· Prothom Alo

আইপিএলে ব্যাটিং সময়ের সঙ্গে অনেক বদলেছে—এই কথা প্রায়ই শোনা যায়। এতটাই শোনা যায় যে মাঝেমধ্যে ব্যাপারটা ঠিক ভালোভাবে বোঝা যায় না। অনেকে মনে করেন, পরিবর্তন মানেই শুধু বড় স্কোর বা বেশি বেশি ছক্কা। আসলেই কি তাই?

না, পরিবর্তনের শেকড় আরও গভীরে। ইনিংসের গতি কেমন হবে, দলগুলো কীভাবে তাদের খেলোয়াড়দের ব্যবহার করবে এবং ইনিংসের বিভিন্ন ধাপে ঝুঁকি নেওয়ার ধরন—সবকিছুতেই বদল এসেছে। সেই পরিবর্তন আসলে কতটা? ক্রিকেট ওয়েবসাইট উইজডেন জানিয়েছে সেই পরিবর্তনের গল্প।

Visit rouesnews.click for more information.

বদলে গেছে ইনিংসের চিরচেনা রূপ

আইপিএল শুরু ২০০৮ সালে। সেই মৌসুমে ব্যাটিং ইনিংসকে আলাদা করে তিন ভাগে ভাগ করা যেত—পাওয়ার প্লে, মিডল ওভার ও ডেথ ওভার। তখন পাওয়ার প্লেতে ওভারপ্রতি রান রেট ছিল ৭.১২; অর্থাৎ শুরুটা হতো বেশ রয়েসয়ে।

মিডল ওভারগুলোতে রান আসত গড়ে ৭.৫২ হারে, অর্থাৎ রানের গতি তখনো খুব একটা বাড়ত না। তবে শেষ ৫ ওভারে ছুটত রানের ট্রেন। সেখানে রান আসত ওভারপ্রতি গড়ে ৯.৪২ হারে। রান তোলা ও ঝুঁকি নেওয়া—দুটিই তোলা থাকত ইনিংসের শেষ ভাগের জন্য।

২০২৫ সালে এসে এই চিত্র পুরোপুরি বদলে গেছে। রান তোলার জন্য এখন আর শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা করা হয় না। গত মৌসুমে পাওয়ার প্লেতে রান এসেছে ওভারপ্রতি ৯.১২ হারে, যা শুরু থেকেই মারমুখী মেজাজেরই প্রমাণ দেয়। মাঝের ওভারগুলোতে রান এসেছে কিছুটা কম, গড়ে ৮.৬০ হারে। ডেথ ওভারে তো কথাই নেই! এই সময়ে গত আইপিএলে রান এসেছে ওভারপ্রতি গড়ে ১০.৩৬ হারে।

এই পরিসংখ্যান শুধু রান বাড়ার গল্প বলছে না, বরং রান তোলার ধরনের পরিবর্তনও দেখাচ্ছে। ২০০৮ সালে দলগুলো অপেক্ষা করত এই ভেবে যে শেষ ওভারগুলোতে ঘাটতি পুষিয়ে নেওয়া যাবে। এখন সেই সুযোগ আর নেই। সব ধাপেই সমানতালে রান তোলায় এখন দেওয়া হচ্ছে সর্বোচ্চ গুরুত্ব।

টপ অর্ডারই সব নয়

২০০৮ সালে ১ থেকে ৩ নম্বর পজিশনের ব্যাটসম্যানরা মানে টপ অর্ডার ১৩০.১ স্ট্রাইক রেটে ৮,৯৪৭ রান করেছিলেন, যা ব্যাটিং অর্ডারে শীর্ষ আট ব্যাটসম্যানের মোট রানের অর্ধেক।

৪ ও ৫ নম্বর পজিশনের ব্যাটসম্যানরা ১২৯.৮৮ স্ট্রাইক রেটে করেছিলেন ৪,৫৯৪ রান, যা মোট রানের ২৮ শতাংশ। অন্যদিকে ৬ থেকে ৮ নম্বর পজিশন থেকে এসেছিল ২,৯২১ রান (১৮ শতাংশ)।

এই পজিশনের ব্যাটসম্যানদের স্ট্রাইক রেট ছিল ১৩২.৫৯, যা ওই বছরের অন্য যেকোনো পজিশনের চেয়ে বেশি হলেও তাদের কার্যকারিতা ছিল সীমিত। কারণ, তাঁরা খুব একটা বল খেলার সুযোগ পেতেন না; সেই বছর মোট বলের মাত্র ১৭.৫ শতাংশ বল খেলেছিলেন তাঁরা।

২০২৫ সালে এসে ব্যাটিং পজিশন অনুযায়ী রানের ভাগ অনেকটা আগের মতোই আছে, তবে সব বিভাগ থেকেই রানের পরিমাণ বেড়েছে পাল্লা দিয়ে। শীর্ষ তিন ব্যাটসম্যান ১৫৮.৫৩ স্ট্রাইক রেটে করেছেন ১৩,৭৬৪ রান (মোট রানের ৫৬%)।

৪ ও ৫ নম্বর পজিশনের ব্যাটসম্যানরা ১৪৭.৫৯ স্ট্রাইক রেটে যোগ করেছেন ৬,৫৭৭ রান (২৭%)। ৬ থেকে ৮ নম্বর পজিশনের ব্যাটসম্যানরা ১৮% ভাগ ধরে রাখলেও ১৫১.৫১ স্ট্রাইক রেটে করেছেন ৪,৩৬২ রান। তারা ২০০৮ সালের চেয়ে প্রায় ৭০০টি বল বেশি খেলেছেন। ব্যাটিং অর্ডারে শীর্ষ আট ব্যাটসম্যানের ছক্কা মারার হার ২০০৮ সালের তুলনায় দ্বিগুণের বেশি বেড়েছে।

এই বিবর্তনের একটি বড় কারণ হলো ‘ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার’ নিয়মের সংযোজন। এর ফলে দলগুলোর ব্যাটিং লাইনআপ আট নম্বর পর্যন্ত লম্বা হয়েছে। ফলে টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানরা ইনিংস ধসে পড়ার ভয় ছাড়াই শুরু থেকে আক্রমণাত্মক হতে পারছেন।

মোস্তাফিজকে বাদ দেওয়া কলকাতা এখন বড্ড বিপদে

২০০ রান এখন ‘ডালভাত’  

২০০৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত আইপিএলে ২০০ রানের গণ্ডি পার করার ঘটনা ছিল হাতেগোনা—মাত্র ৬.৯৯% ক্ষেত্রে এটি ঘটেছে। এই সময়ে ১৯০২টি ইনিংসের মধ্যে মাত্র ১৩৩ বার ২০০ রান দেখা গিয়েছিল।

কিন্তু এরপর থেকে এই চিত্র দ্রুত বদলে গেছে। মাত্র ৪৩৮টি ইনিংসের মধ্যে ১৩০ বার ২০০ রান হয়েছে; অর্থাৎ ২৯.৬৮% ম্যাচেই এখন ২০০ বা তার বেশি রান দেখা যাচ্ছে। ২০০৮ সালে প্রতি ইনিংসে গড় রান ছিল ১৪৫ এবং ছক্কা হতো ১০টির মতো। তখন ২০০ রান মানেই ছিল নিশ্চিত জয়।

২০২৫ সালে এসে প্রতি ইনিংসে গড় রান বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭২ এবং ছক্কার সংখ্যা বেড়ে হয়েছে প্রায় ১৮টি। এখন ইনিংসে ২০০ রান যেন নিয়মিত চিত্র। মজার ব্যাপার, ব্যাটসম্যানদের আউট হওয়ার সময়ের খুব একটা পরিবর্তন হয়নি। দুই মৌসুমেই প্রতি উইকেটের পতন হয়েছে প্রায় ১৯টি বল পরপর। এর মানে হলো, ব্যাটসম্যানরা দীর্ঘক্ষণ ব্যাটিং করছেন না, বরং তারা একই পরিমাণ বল খেলে অনেক বেশি দ্রুত রান তুলছেন।

আইপিএল, পিএসএল, বিগ ব্যাশ, বিপিএল—কোন লিগ কতটা প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ

Read at source