সিডনির তপ্ত দুপুরে কোরিয়ান ঝড়ে ৫ গোল হজম বাংলাদেশের

· Prothom Alo

সিডনির আকাশ অনেকটাই তপ্ত। থার্মোমিটারে পারদ ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস স্পর্শ করলেও ওয়েস্টার্ন সিডনি স্টেডিয়ামে সূর্যের সেই তেজকেও হার মানিয়েছিল উত্তর কোরিয়ার ফুটবলারদের গতি। র‍্যাঙ্কিংয়ের ৯ নম্বরে থাকা এক পরাশক্তির সামনে ১১২ নম্বরে থাকা বাংলাদেশের লড়াইটা ছিল অনেকটা উত্তাল সমুদ্রের মাঝে একচিলতে ভেলা হয়ে টিকে থাকার প্রাণপণ চেষ্টা। ফুটবলের এই ‘ডেভিড বনাম গোলিয়াথ’ লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত ৫-০ গোলের বড় ব্যবধানে হারতে হয়েছে বাংলাদেশকে।

ম্যাচ শুরুর বাঁশি বাজার পর থেকেই চিত্রটা পরিষ্কার হয়ে যায়—এটি হতে যাচ্ছে উত্তর কোরিয়ার ধারালো আক্রমণভাগ বনাম বাংলাদেশের রক্ষণের এক অগ্নিপরীক্ষা। বিশেষ করে গোলরক্ষক মিলি আক্তার আজও যেন পণ করেছিলেন, একাই রুখে দেবেন সব ঝড়।

Visit aportal.club for more information.

ম্যাচের মাত্র ৬ মিনিটে কোরিয়ান ফরোয়ার্ড হান জিন হং গোলরক্ষককে একা পেয়েও পরাস্ত করতে পারেননি মিলির দৃঢ়তায়। ১১ মিনিটে আবারও হংয়ের নিশ্চিত গোল আটকে দিয়ে মিলি যেন সিডনির মাঠে প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। পুরো ম্যাচে ৫টি গোল হজম করলেও মিলি অন্তত ৬-৭ গোল রুখে দিয়ে পরাজয়ের ব্যবধান আরও বড় হতে দেননি।

পাঁচ গোল খেয়ে উত্তর কোরিয়ার কাছে হারল বাংলাদেশ

প্রথমার্ধে শুধু মিলিই নন, ভাগ্যও বাংলাদেশের পাশে। ম্যাচের ১৪ মিনিটে প্রথমবার জালে বল জড়িয়েছিল উত্তর কোরিয়া, কিন্তু ভিএআর পরীক্ষায় দেখা যায়, সেটি হ্যান্ডবল ছিল। ২৬ মিনিটে আবারও কোরিয়ানরা উল্লাসে মেতে উঠলে ভিএআর বাদ সাধে অফসাইডের কারণে।

৩৮ মিনিটে কিম কিয়ং-ইংয়ের হেড পোস্টে লেগে ফিরে এলে গ্যালারির প্রবাসী বাংলাদেশিরা যেন হাঁপ ছেড়ে বাঁচেন। প্রথমার্ধে উত্তর কোরিয়া ১৬টি শট নিলেও বাংলাদেশ একটি শটও নিতে পারেনি কোরিয়ার পোস্টে। পুরো ম্যাচেই বাংলাদেশ কোনো আক্রমণ শাণাতে পারেনি। বাংলাদেশের কাছে যে লড়াইটা আশা করা হচ্ছিল চীনের বিপক্ষে দারুণ খেলার পর, সেটি মেয়েরা পারেননি।

আক্রমণে সুবিধা করতে পারেননি মারিয়া মান্দারা

পরিস্থিতি বেগতিক দেখে বিরতির আগেই সাহসিকতার পরিচয় দেন বাংলাদেশের কোচ পিটার বাটলার। ৪৩ মিনিটের মধ্যেই তিনি তিনটি পরিবর্তন আনেন। মাঠে নামান স্বপ্না রানী, আনিকা ও উমেলাহকে। প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময় পর্যন্ত স্কোরলাইন ০-০ রাখতে পারলেও যোগ করা সময়ের পঞ্চম মিনিটে সব প্রতিরোধ তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে। বক্সের ভেতর ডিফেন্ডার আফঈদা প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়ের জার্সি টেনে ফেলে দিলে পেনাল্টির বাঁশি বাজে। মিয়ং ইউ-ঝং লক্ষ্য ভেদ করে ডেডলক ভাঙেন (১-০)। এই গোলের রেশ কাটতে না কাটতেই মাত্র দুই মিনিটের ব্যবধানে কিম কিয়ং-ইয়ং ব্যবধান দ্বিগুণ করেন (২-০)।

চীনের বিপক্ষে আগের ম্যাচে যে লড়াকু বাংলাদেশ দেখা গিয়েছিল, আজ কোরিয়ার বিপক্ষে সেই ছন্দ ছিল অনুপস্থিত। চীন ৯ বারের চ্যাম্পিয়ন হলেও তাদের খেলার গতি ছিল কিছুটা ধীরস্থির। কিন্তু উত্তর কোরিয়া অনেক বেশি গতিশীল দল। তারা বাংলাদেশের মূল ভরসা ঋতুপর্ণা চাকমাকে একমুহূর্তের জন্য ছাড় দেয়নি। ফলে ঋতুপর্ণাকে ম্যাচজুড়ে খুঁজেই পাওয়া যায়নি।

মিলিকে এলভিস প্রিসলির সঙ্গে তুলনা করলেন বাটলার

৬২ মিনিটে গোলরক্ষকের এগিয়ে আসার সুযোগ কাজে লাগিয়ে গোল করেন চা উন-ইয়ং (৩-০)। ৬৪ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় ও দলের চতুর্থ গোল করেন কিম কিয়ং-ইয়ং। ম্যাচের একদম অন্তিম লগ্নে ৮৯ মিনিটে পঞ্চম গোলটি হজম করে বাংলাদেশ।
ফলাফল যা-ই হোক, সিডনির গ্যালারিতে গত ম্যাচের মতো না হলেও আজও কিছু প্রবাসী এসেছিলেন। ‘আমার সোনার বাংলা’ জাতীয় সংগীত যখন বাজছিল, তখন এক আবেগঘন পরিবেশ তৈরি হয়। প্রবাসী দর্শকদের এই সমর্থনই যেন ছিল বাংলাদেশের একমাত্র প্রাপ্তি।

উত্তর কোরিয়া ম্যাচজুড়ে দাপট দেখিয়েছে

৯ মার্চ পার্থে উজবেকিস্তানের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। প্রথম দুই ম্যাচে ৭ গোল হজম করায় কোয়ার্টার ফাইনালের পথটি এখন বেশ বন্ধুর। তবে উজবেকিস্তানের বিপক্ষে জয় পেলে সেরা তৃতীয় দলের একটি হয়ে শেষ আটে যাওয়ার গাণিতিক সম্ভাবনার দৌড়ে টিকে থাকতে পারে বাংলাদেশ।

উত্তর কোরিয়া টানা দুই ম্যাচ জিতে শিরোপার দাবিদার হিসেবে নিজেদের জানান দিল আর বাংলাদেশ পেল সর্বোচ্চ পর্যায়ের ফুটবলে কঠিন এক পাঠ। এত উচ্চ র‍্যাঙ্কিংয়ের দলের সঙ্গে এই প্রথম খেলল বাংলাদেশ। এর আগে ৩ মার্চ র‍্যাঙ্কিংয়ে ১৭তম চীনের বিপক্ষে খেলেছে বাংলাদেশ। পরপর দুই ম্যাচে এশিয়ার দুটি শীর্ষ দলের সঙ্গে খেলতে নেমে বাংলাদেশ কোনো পয়েন্ট হয়তো পায়নি, তবে এমন দলের সঙ্গে খেলার অভিজ্ঞতাই আসল প্রাপ্তি।

Read at source